Published : 24 Jun 2026, 07:05 PM
বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গা শিশু এবং তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষাকারী সেবা অব্যাহত রাখতে ইউনিসেফকে ১ কোটি ১৪ লাখ মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।
বুধবার ইউনিসেফ বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া সরকার এই অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়।
শরণার্থী শিশুদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় সেবাগুলো যখন তহবিল ঘাটতির কারণে চাপের মুখে পড়েছে, ঠিক তখনই এই গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা এল।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া এই অর্থ সহায়তা ২০২৮ সাল পর্যন্ত একাধিক কিস্তির মাধ্যমে দেওয়া হবে।
এই অর্থ কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গা শিশুদের জরুরি স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, পানি, স্যানিটেশন ও সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, “সংকট অব্যাহত থাকায় অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।”
তিনি বলেন, “শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা, সুরক্ষা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে এই অর্থ সহায়তা।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গা শিশুরা নির্বাসিত অবস্থায় মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে বেড়ে উঠছে।
কিন্তু তহবিল সংকটের কারণে এই শরণার্থী সংকটের বহু কষ্টে অর্জিত অগ্রগতিগুলো এখন হুমকির মুখে পড়েছে, যা অসহায় শিশুদের ক্ষুধা, রোগ, সহিংসতা এবং জরুরি সেবা পাওয়ার সুযোগ হারানোর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “যেখানেই থাকুক না কেন শিশু তো শিশুই; আর প্রতিটি শিশুরই বেঁচে থাকা, শেখা ও বিকশিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের মধ্যে রোহিঙ্গা শিশুরা অন্যতম। এই শিশুদের জন্য স্থায়ীভাবে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে একটি প্রজন্ম ও একটি সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার প্রকৃত ঝুঁকি দেখা দেবে।”
জরুরি সময়ে এই সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তিনি অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ইউনিসেফ বলছে, ২০২৫ সালে রোহিঙ্গাদের সামগ্রিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৪৬ শতাংশ পাওয়া গেলেও ইউনিসেফ অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের (ডিএফএটি) সহায়তায় পরিচালিত কর্মসূচির মাধ্যমে ৬ লাখ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিয়েছে।
এর মাধ্যমে শরণার্থী শিবিরগুলোতে, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এবং ভাসানচরে শিশু ও পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা দেওয়া হয়েছে।
এই অগ্রগতি সত্ত্বেও ২০২৬ সালে জীবন রক্ষাকারী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এখনো প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতি রয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন প্রতিশ্রুতি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি শিশুদের অধিকার, কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ আগামীর পথ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে ইউনিসেফ।