Published : 29 Jun 2026, 01:16 PM
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার জয়ের নায়ক স্টেফেন অন্তুনজুস্তাকের পারফরম্যান্স মন জয় করে নিয়েছে জেসি মার্শের। দলটির কোচের মতে, ছেলের ব্যবধান গড়ে দেওয়া মুহূর্তটি দেখে গর্বিত হতেন এই মিডফিল্ডারের প্রয়াত বাবা-মা।
লস অ্যাঞ্জেলসে রোববার শেষ বত্রিশের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারায় কানাডা। প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার করা দলটি এবার জায়গা করে নিল শেষ ষোলোতে।
যখনই মনে হচ্ছিল, ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে, ঠিক তখনই ব্যবধান গড়ে দেন ২৯ বছর বয়সী অন্তুনজুস্তাক। যোগ করার সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে চোখধাঁধানো গোলটি করেন তিনি। বল ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে বুক দিয়ে নামিয়ে দুর্দান্ত হাফ ভলিতে খুঁজে নেন জাল।
মাত্র এক বছরের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে বাবা-মা উভয়কেই হারান অন্তুনজুস্তাক। ২০২৩ সালের এপ্রিলে মৃত্যু হয় তার মায়ের এবং ২০২৪ সালের মে মাসে বাবার।
মার্শের মতে, ব্যক্তিগতভাবে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া অন্তুনজুস্তাকের জন্য গোলটি ছিল উপযুক্ত পুরস্কার।
“অসাধারণ কিছু মানুষের এই দলে স্টেফেনের চেয়ে বেশি এই মুহূর্তের যোগ্য কাউকে আমি ভাবতে পারছি না। হয়তো এমন একটি মুহূর্তের সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য সে-ই। আমি তার জন্য সত্যিই ভীষণ খুশি। আমার বিশ্বাস, কোথাও থেকে তার বাবা-মা তাকিয়ে ছিলেন এবং তারা এই দৃশ্য দেখেছেন।”
“দলের মধ্যে স্টিফ এমন একজন মানুষ, যাকে সবচেয়ে বেশি ভরসা করা যায় এবং আমরা একটি দল হিসেবে কী অর্জন করতে চাই তা সে খুব ভালো বোঝে। আমরা মাঠে শান্ত থাকার ব্যাপারে অনেক কথা বলি... সেই মুহূর্তে ওকে শুধু এটাই ভাবতে দেখাটা দারুণ ছিল যে, কীভাবে শট নিলে বলটি জালে জড়ানোর সবচেয়ে বেশি সুযোগ থাকবে।”
মার্শের বিশ্বাস, এমন নাটকীয় জয় কানাডাজুড়ে বড় প্রভাব ফেলবে।
“যে সময়ে গোলটি এসেছে, তাতে এই জয় অবিশ্বাস্য রকম নাটকীয় হয়ে উঠেছে। আমার মনে হয় কানাডার মানুষের ওপর এর প্রভাব এবং তাদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা হবে বিশাল।”
গ্রুপ পর্ব শেষে কানাডা ছাড়তে হওয়ায় কিছুটা হতাশ ছিলেন দলের দলের সবাই। তবে মার্শ বললেন, লস অ্যাঞ্জেলসে খেলা তাদের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করেনি, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে তারা অভ্যস্ত।
“আমরা যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে অভ্যস্ত। আসলে কানাডার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেই আমরা বেশি ম্যাচ খেলি।”
আগামী শনিবার শেষ ষোলোর ম্যাচে মরক্কো কিংবা নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে কানাডা। এটাকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের পরীক্ষা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন মার্শ।
“আমার কাছে, এই ম্যাচে হারানোর কিছু নেই। এটা এমন এক সুযোগ, যেখানে আমরা লড়াই করব এবং জয়ের পথ খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”