Published : 11 Jun 2026, 08:13 PM
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার রাজিয়া সুলতানা জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তবে এই সীমাবদ্ধতা তার স্বপ্ন ও এগিয়ে চলার পথকে থামিয়ে রাখতে পারেনি।
কঠোর পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৭ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার পরও চাকরি না পেয়ে তিনি হতাশ হয়ে পড়ছেন। মাঝে মাঝে ভাবেন, তার প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে চলার স্বপ্নগুলো কি থেমে যাবে?
রাজিয়া সুলতানা (২৯) উপজেলার আলাওলপুর ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি মুন্সিবাড়ির মেয়ে। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান কবির। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।
স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, ছোটবেলা থেকেই রাজিয়া খুব মেধাবী। তার বাবা-মা সব সময় তাকে পড়াশোনায় উৎসাহ দিয়েছেন। ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকার ব্যাপটিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়।
পরে তিনি মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি এবং বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) বিশেষ শিক্ষা বিভাগে ভর্তি হন।
পড়াশোনা শেষ করে রাজিয়া কয়েকটি চাকরির পরীক্ষা দেন। তবে এখনো কোনো চাকরি পাননি। এ নিয়ে তার আক্ষেপ রয়েছে।
রাজিয়ার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো না। একমাত্র ভাই সুমন আহমেদ একটি দোকানে কর্মচারীর কাজ করে সংসার চালান। অন্যদিকে তার বাবা শাহজাহান কবির প্রায় এক বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রতিবেশী ফাতেমা বেগম বলেন, “রাজিয়া অনেক মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেও চাকরি পাচ্ছেন না। আমরা চাই, সরকার তার জন্য একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুক।”
তিনি বলেন, রাজিয়া শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভাইভার জন্য ডাক পাননি।
রাজিয়ার চাচাতো ভাই সাইদুর রহমান বলেন, “অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করেছে রাজিয়া। উচ্চশিক্ষিত হওয়ার পরও চাকরি না পাওয়াটা কষ্টের।”
রাজিয়া সুলতানা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে একটি ভালো চাকরি করব। কিন্তু এখনো সেই সুযোগ পাইনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেও চাকরি না পাওয়াটা খুবই কষ্টের।”
তিনি বলেন, “আমি নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে করি না। আমিও সবার মত একজন মানুষ। আমার বিশ্বাস, একদিন আমার যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ পাব।”
প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, শরীয়তপুরের কর্মকর্তা এম এম ইয়াসিন মোহাম্মদ বলেন, “রাজিয়া সরকারি প্রতিবন্ধী তালিকাভুক্ত কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখব। পাশাপাশি তার কর্মসংস্থানের বিষয়ে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুশরাত আরা খানম বলেন, “রাজিয়া সুলতানা সম্পর্কে আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। আশা করি, তার যোগ্যতা অনুযায়ী তিনি চাকরি পাবেন।”