০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে

সাজেক কটেজ মালিক সমিতির এক নেতা জানান, অবরোধের কারণে সকালে সাজেক থেকে কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি ছেড়ে যায়নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Oct 2026, 12:27 PM

Updated : 11 Oct 2026, 02:41 PM

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্রের সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

রোববার সকাল ৬টা থেকে ‘সাজেক সড়কে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন’ ও ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’র ডাকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।

এর আগে শনিবার সাজেক থেকে জনসংহতি সমিতি-জেএসএস সন্তু পক্ষের সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠন দুটি।

এদিন এক যৌথ বিবৃতিতে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এদিকে অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের ১০ নম্বর, রেতকাবা ও উজোবারসহ বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন অবরোধকারীরা। এ সময় তারা গাড়ি চলাচলে বাধা দেন।

তবে অবরোধ যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাজেকে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকরা।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা বলেন, “সকাল থেকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। যান চলাচলের বন্ধ রয়েছে।

“তবে রোগী বহনকারী গাড়ি, সংবাদকর্মীদের গাড়ি, ওষুধ ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহনগুলো অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় অবরোধকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, “অবরোধের কারণে সকালে কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি পর্যটন কেন্দ্র থেকে যেতে পারেনি। তারা রিসোর্টেই অবস্থান করছেন।

“বেলা ২টার পর গাড়ি চলাচল শুরু হলে পর্যটকেরা যাতায়াত করতে পারবেন।”

এর আগে শনিবার সকাল ও দুপুরে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় প্রায় ১০০টি গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করে। এসব গাড়িতে আনুমানিক ৫০০ জনের বেশি পর্যটক ছিলেন জানিয়েছেন তিনি।

সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলছেন, “সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমদের সঙ্গে সেনাবাহিনীও সহযোগিতা করছে।”

সাজেক কারকারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সদস্যরা সাজেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাচ্ছে এবং আশপাশের লোকজনকে হুমকি দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সাজেকের উজোবাজারে এক সমাবেশ থেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সরানো না হওয়ায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

এর প্রতিক্রিয়ায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, “জেএসএসকে সরানোর জন্য যদি এ অবরোধ হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে, এটি জনগণের স্বার্থে বা শুভ উদ্দেশ্যে ডাকা হয়নি। জুম্ম জনগণসহ এ অঞ্চলের সব মানুষের স্বার্থে সংগ্রাম করে আসছে জেএসএস।”

সাজেকে সড়ক অবরোধের ডাক