সাজেকে সড়ক অবরোধের ডাক
রোববার সকাল ৬টা থেকে শুরু হতে যাওয়া অবরোধে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন আওতামুক্ত থাকবে।
রাঙামাটির সাজেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু) সদস্যদের সরানোর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যটন সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে দুটি সংগঠন।
শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।
বিবৃতিতে বলা হয়, রোববার সকাল ৬টা থেকে অবরোধ শুরু হবে। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন এর আওতামুক্ত থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সাজেকের উজোবাজারে এক সমাবেশ থেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে তাদের সরানো না হওয়ায় অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, “অবরোধের বিষয়টি আমরাও শুনেছি। শুক্রবার আসা পর্যটকেরা শনিবার সকাল ও দুপুরে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় সাজেক থেকে চলে গেছেন। এ ছাড়া শনিবার সকাল ও দুপুরে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় প্রায় ১০০টি গাড়ি সাজেকে প্রবেশ করেছে। পর্যটকের সংখ্যা আনুমানিক ৫০০ জনের বেশি হতে পারে।”
এ ব্যাপারে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর মুখপাত্র অংগ্য মারমা বলেন, “যে দুটি সংগঠন অবরোধের ডাক দিয়েছে, সেগুলো স্বতন্ত্র সাংগঠনিক সংগঠন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। আমরাও এ সংঘাত বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছি। সে দিক থেকে তাদের সঙ্গে আমাদের মিল রয়েছে। তবে এ দুটি সংগঠনের সঙ্গে ইউপিডিএফের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
তিনি বলেন, “জনগণের পক্ষ থেকে ভালো কোনো দাবি উঠলে জেএসএস ইউপিডিএফের নাম জড়িয়ে দেয়। জেএসএস পাহাড়ি জনগণের ওপর হামলা চালাচ্ছে ও হুমকি দিচ্ছে। এসব ঘটনার সুরাহা হওয়া উচিত।”
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-সন্তু লারমা) তথ্য প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, “জেএসএসকে সরানোর জন্য যদি এ অবরোধ হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে, এটি জনগণের স্বার্থে বা শুভ উদ্দেশ্যে ডাকা হয়নি। জুম্ম জনগণসহ এ অঞ্চলের সব মানুষের স্বার্থে সংগ্রাম করে আসছে জেএসএস।”
তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, চুক্তিবিরোধী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা ওই দুটি সংগঠনকে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জেএসএসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সাজেকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে এবং তাঁদের ওপর নিপীড়ন ও হয়রানি চালাচ্ছে।”
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। রোববারের অবরোধের বিষয়ে আমরাও শুনেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।”
