Published : 20 Jun 2026, 05:45 PM
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামচন্দ্রের বিগ্রহের প্রতি অবমাননা, বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাঙচুরের প্রতিবাদে নেত্রকোণা ও রাজবাড়ীতে বিক্ষোভ করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা।
শনিবার সকাল ১১টায় নেত্রকোণায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ব্যানারে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনের সড়কে মানববন্ধন হয়।
একই সময়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল হয়।
নেত্রকোণার মানববন্ধনে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিটন পন্ডিত বলেন, “শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য এবং মন্দির ধ্বংসের হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা নির্মল দাশ, সভাপতি জ্ঞানেশ সরকার ও রাজু তালুকদার। কর্মসূচিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মী, ভক্ত এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
অন্যদিকে রাজবাড়ীতে মানববন্ধনের আগে শহরের পান্না চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাজবাড়ী প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, শ্রীরামচন্দ্রের প্রতি অবমাননা এবং বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে ভাঙচুর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
পাশাপাশি দেশের সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় ও ধর্মীয় অনুভূতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাজবাড়ী শাখার সভাপতি প্রদীপ্ত চক্রবর্তী কান্ত, সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার দাশ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ সুশীল দত্ত তাপস, সহসভাপতি উপেন্দ্র নাথ রায়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক নির্মল চক্রবর্তী, সদস্যসচিব সমীর কুমার দাসসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা দাবি করেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় একটি সনাতন ধর্ম কমপ্লেক্সে ৮১ ফুট উচ্চতার শ্রী রামচন্দ্রের বিগ্রহ নির্মাণকাজ চলছিল। কিছু গোষ্ঠীর বিরোধিতা ও হুমকির মুখে কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে নির্মাণকাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
আরও পড়ুন: