Published : 03 Mar 2026, 06:22 PM
সহপাঠী-স্থানীয়দের পর পুলিশের ডাকাডাকিতেও ঘুম ভাঙেনি মেসের দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে থাকা কলেজ ছাত্রের। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তরুণের ঘুম ভাঙাতে সক্ষম হয়।
সোমবার বেলা ৪টার দিকে নগরীর সানকিপাড়া হেলথ অফিসার গলির ছাত্র মেসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন।
ঘুমিয়ে থাকা ১৯ বছরের মো. সোহান জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা। তিনি ওই ছাত্র মেসে থেকে নগরীর বেসরকারি একটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ছাত্র মেসের শিক্ষার্থীরা দরজা ধাক্কাতে ধাক্কাতে সহপাঠীকে ডাকতে থাকে। কিন্তু তার কোনো সাড়া মেলেনি। এমতাবস্থায় স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বাসার দরজার সামনে ও নিচে ভিড় জমায়। স্থানীয়রাও অনেক ডাকাডাকি করে সোহানকে। কিন্তু কিছুতেই তার সাড়া মিলছিল না।

পরে থানায় খবর দিলে পুলিশও ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাডাকি করে। তাতেও কোনো সাড়া না মেলায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে দরজা খুলে ভিতরে ডুকে ওই শিক্ষার্থীকে খাটে লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। এবং ডেকে তুলেন।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিন বলেন, ভোররাতে সেহেরীর পর সহপাঠীরা না ঘুমিয়ে বাইরে চলে যায়। তখন সময় সোহান ভিতর থেকে দরজা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
পরে সকালে সোহানের সহপাঠীরা এসে অনেক ডাকাডাকি করে। তবে, তার সাড়া মেলেনি। তার মোবাইলে কল দেওয়া হলেও সে রিসিভ করছিল না। তাতে সবার মধ্যে নানা আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিষয়টি আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষজন ভিড় জমাতে থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার সাড়া পেতে ব্যর্থ হয়। এভাবে ১২ ঘণ্টা কেটে যায়।

পরে ফায়ার সার্ভিস এসে বিকাল ৪টার দিকে সোহানকে দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয়।
কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, “ওই ছেলেটি সারারাত না ঘুমিয়ে ভোররাতে ঘুমায়। যে কারণে অনেক ডাকাডাকি করলেও সে টের পায়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করা হয়। ছেলেটি এখন সুস্থ আছে।”