বাজারে মানুষ চাহিদামত কেনাকাটা করতে পারে না: সারজিস
“অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ১০০ দিনে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।”
বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষ তাদের চাহিদামত জিনিস কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম।
তিনি বলেছেন, “এই সংস্কার সিস্টেমের প্রত্যেকটি জায়গায় রাজনৈতিক দলগুলো দেশের কথা, দেশের মানুষের কথাকে প্রাধান্য না দিয়ে কিভাবে ব্যক্তির স্বার্থ প্রাধান্য পায়, দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য পায়, কিভাবে নিজের দলের মানুষকে একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো যায়- এগুলো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেছে।
“বাজারে গেলে সাধারণ মানুষ চাহিদামত কেনাকাটা করতে পারে না। বাজার সিন্ডিকেটগুলোর হাত বদল হয়েছে।”
রোববার রাতে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাতে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, “আমাদের জায়গা থেকে আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তিন, চার, পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার কথা বলছি না। আবার ছয় মাসের মতো অযৌক্তিক কোনো কথা হতে পারে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে ১০০ দিনে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি। তবে রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা করলে এই সরকারের অবস্থান আরো ভাল হতো। সব রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এই মুহূর্তে সহযোগিতা করা উচিত। তারা যদি সরকারকে সহযোগিতা করে তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। নির্বাচন দ্রুত হবে।”
তিনি বলেন, “দুই হাজার মানুষ পরিবারের সদস্যদের কথা চিন্তা না করে জীবন দিয়েছে শুধু একটি নির্বাচনের জন্য নয়। তাহলে বিগত ১৬ বছরে সব মানুষ এক সঙ্গে রাজপথে নেমে যেত। মানুষ প্রত্যেকটি জায়গায় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।
“সাধারণ মানুষের সেবা পেতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছিল। মানুষকে টাকা দিতে হত, সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ছিল, তখন এই সামগ্রিক সিস্টেমগুলোর বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা এক সঙ্গে রাজপথে নেমেছিল। ১৬ বছরে যে সমাধানটি রাজনৈতিকভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেই খুনি হাসিনার পতন হয়েছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাতি মাহমুদুল হক সানু, সমন্বয়ক মো. মাহিম সরকার, টাঙ্গাইলের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আল আমিন, মো. কামরুল ইসলাম, আল আমিন সিয়াম।
