Published : 06 Jun 2026, 03:53 PM
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকার শূন্য রেখায় থাকা নারী পুরুষ এবং শিশুসহ সেই ১৭ জনকে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা।
বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর শুক্রবার রাত ১টার দিকে তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানান নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।
শনিবার সকালে বিজিবির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের মাহবুব আলম বলেন, “ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিল। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়।
তবে ওই ব্যক্তিরা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, “বিএসএফ নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদেরকে বাধা দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চলে যায়।”
এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় ৮৮ বিএসএফ পান্নাছাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা। তাদের মধ্যে ছিল ৬ জন পুরুষ ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু।
সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা। তবে দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা যাবত পুশ ইনের এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী।
কিন্তু স্থানীয়দের সহযোগিতায় সে চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় বিজিবি সদস্যরা। বিজিবি সদস্যদের এমন অবস্থানের প্রশংসা করেছেন স্থানীয়রা।
বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিকদিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইতে থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নোম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
“রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।”
আগের সংবাদ
নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জনকে 'পুশ ইনের' চেষ্টা বিএসএফের, ঠেকাল বিজিবি