Published : 30 Nov 2025, 08:43 PM
বেতন কাঠামো একাদশ গ্রেড থেকে দশম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন করছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (সকল) ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা। এর অংশ হিসেবে তারা দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন।
এ উপলক্ষে রোববার সকাল ৯ টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ কর্মস্থলে বিরতি দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ বা মানববন্ধন করেছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল, বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে রোগ নির্ণয় ও ঔষুধ ব্যবস্থাপনাসহ নানাবিধ স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
কিন্তু সমশিক্ষাগত যোগ্য ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, নার্স ও কৃষিবিদদের মতো তাদের দশম গ্রেডে উন্নীত না করায় এই পেশাজীবীদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
তাই দশম গ্রেডের দাবি জানিয়ে ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে প্রস্তাব পাঠায়। সর্বশেষ ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ফাইলটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
তাদের অভিযোগ কাগজপত্র যাচাই ও দাপ্তরিক জটিলতার কারণে তাদের ন্যায্য দাবি আটকে রয়েছে।
আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, সকালে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের জেলা শাখা।
এ সময় বক্তব্য দেন, সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হাফিজুর রহমান, এরশাদ আলী, রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, পরিবার পরিকল্পনার ফার্মাসিস্ট রাসেল অভি, ফার্মাসিস্ট আসাদুজ্জামান শামীম, রেজাউল করিম, মমিনুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে লাম আলিফ ইমতিয়াক ও হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অনেকে।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে কর্মবিরতি কর্মসূচিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশনে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন, সদর হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট জসিম উদ্দিন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) কুমিল্লা অঞ্চলের সভাপতি আতিকুর রহমান, জেলা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট'র (ফিজিও) সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল হোসেন ও ভবানীগঞ্জ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট অলিউল্লা মানিক উপস্থিত ছিলেন।
মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, মাদারীপুর ২৫০ শয্যার হাসপাতালের সামনে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট জাহাঙ্গীর আলম, ফার্মাসিস্ট বিমল চন্দ্র মল্ডল, টেকনোলজিষ্ট উত্তম কুমার মণ্ডলসহ শিক্ষার্থীরা।
দ্রুত দশম গ্রেড বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, দাবি আদায় না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর অর্ধদিবস কর্মবিরতি ও ৪ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

রোগীদের দুর্ভোগ
এদিকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালে আসা রোগী ও ভর্তি থাকা রোগীদের সেবা নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
বিভিন্ন হাসপাতালে ফার্মেসি ও ল্যাবরেটরির সামনে দীর্ঘলাইন দেখা গেছে সেবাগ্রহীতাদের।
লক্ষ্মীপুরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভবানীগঞ্জের দিনমজুর মো. হারুন বলেন, “হাসপাতালের লোকজন কর্মবিরতি পালন করলে আমরা চিকিৎসা নিবো কিভাবে। অসুস্থ শরীর নিয়ে দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই।”
ফার্মেসির সামনে ওষুধের জন্য অপেক্ষায় থাকা বিলকিস আক্তার বলেন, “বাড়িতে বাচ্চা রেখে ডাক্তার দেখাতে এসেছি। ওষুধের জন্য প্রায় একঘণ্টা দাড়িয়ে আছি। ফার্মাসিস্টরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য কর্মবিরতি করছে। আর আমরা আছি ভোগান্তিতে।”