Published : 11 Jun 2026, 10:01 PM
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার একটি মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন মন্দিরের পুরোহিত। এ ঘটনায় উভয়পক্ষ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের উত্তর চরপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া।
আহত বিমল চক্রবর্তী উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের গোপাল গিরিধারী মন্দিরের পুরোহিত। তিনি রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছেন।
পুলিশ জানায়, মন্দিরের জমিদাতা শচিবালা দাস ছিলেন নিঃসন্তান। জীবদ্দশায় তিনি কাজল দাসদের কাছে সাড়ে ৫১ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এ ছাড়া মন্দিরের জন্য সোয়া আট শতাংশ জমি দেবোত্তর করে দিয়ে যান। তার মৃত্যুর পরও সাড়ে সাত শতাংশ জমি রয়ে যায়। সেখানে তার সমাধি রয়েছে।
বাকি অংশে শিব মন্দির স্থাপনের উদ্যোগে নেওয়া হয়। এর মধ্যে ওই জমি নিজের দাবি করে ১৪৪ ধারায় মামলা করেন কাজল। পরে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। পরে সেখানে শিবের মূর্তি বসানোসহ কর্মযজ্ঞ শুরু হলে কাজল আবার বাধা দেন।

দুপুরে এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কাজল পুরোহিত বিমলের ওপর হামলা করেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। হামলায় বিমলের নাক ফেটে জখম হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মন্দির কমিটির উপদেষ্টা পলাশ দাস বলেন, “মন্দিরের জমি কাজল নিজের দাবি করে একের পর এক মামলা ও ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। মন্দির স্থাপনে তিনি বাধা দিয়ে আসছেন। সবশেষ হামলা চালিয়ে মারধর করলেন। পুরোহিতকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”
কাজল দাসের স্ত্রী পপি দাস বলেন, “শচিবালা দাসের থেকে আমরা ৫১ শতাংশ জমি ক্রয় করি। ওই জমিতে গিরিধারী মন্দিরের লোকজন রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক শিবমন্দির স্থাপন করেন। এটি তাদের শয়তানি। এতে বাধা দেওয়ায় তারা লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। তারা আমার স্বামীকে মারার জন্য ওৎ পেতে রয়েছে।”
লক্ষ্মীপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা বলেন, “জমি নিয়ে আদালতে মামলা আছে বলেও শুনেছি। এ নিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধান করা হবে।”
ওসি শাহীন মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পুলিশ পাঠানো হয়। তবে থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।