Published : 27 Aug 2025, 08:47 PM
সিলেটের ‘সাদাপাথর’ লুটপাটের তদন্তে যেন কোনো ধরনের প্রভাব না পড়ে সেজন্য সব বিষয় গোপনীয় রেখেই সতর্কতার সঙ্গে কাজ চলছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছে।
বুধবার বিকালে গণশুনানি শেষে সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন।
তিনি বলেন, “পাথর লুট ইস্যুতে সিলেটে দুই দিন অবস্থান করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত এসব তথ্য-উপাত্ত আমলে নিয়ে বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
জাহেদা পারভীন বলেন, “আমরা দুটো বিষয়কে সামনে রেখে কাজ করছি। প্রথমটি- কারা এই ঘটনায় জড়িত, কার কী দায় আছে। আর দ্বিতীয়টি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে আমাদের প্রস্তাবনা।”
সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র ও রেলওয়ে বাংকার এলাকায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বুধবার সকাল থেকে গণশুনানি শুরু করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটি।
শুনানিতে আলাদাভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তা, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠন, ট্রাক পরিবহন মালিক সমিতি, পাথর ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। এ সময় প্রেস ক্লাব নেতারাও অংশ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার তদন্ত কমিটি সরেজমিনে কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকা পরিদর্শন করে।
২০ অগাস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সাদাপাথর লুটের ঘটনায় এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক প্রাথমিক তদন্ত করে ৫৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার কথা বর্ণনা করে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা ও যোগসাজশ ছিল। এতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ওসিসহ মোট ৫৩ জনের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ী রয়েছেন ৪২ জন।
অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা
সিলেট জেলায় অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রয় নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
বুধবার সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে। আদেশে এসব কর্মকাণ্ড ‘সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে মো. সারওয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, “যারা অবৈধ এসব কর্মকাণ্ড করছে তাদের স্মরণ করিয়ে দিতেই এই আদেশ। যাতে তারা এসব অবৈধ কাজ আর না করে।”
এর আগে শনিবার ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর এলাকা থেকে লুট হওয়া সাদাপাথর স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে দিতে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর সেই সময় সীমা শেষ হয়েছে।