১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তিস্তার পানি কমায় লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

পানি কমতে শুরু করলেও এখনো ভোগান্তি শেষ হয়নি পানিবন্দি মানুষের।

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2026, 03:12 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:39 PM

টানা অতিভারি বর্ষণ আর উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলেও ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তা আবার নিচে নেমে এসেছে। ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতিরও দ্রুত উন্নতি ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান বলেন, “সোমবার রাতে তিস্তার পানি বাড়লেও সকাল থেকে কমতে শুরু করেছে এবং দুপুরের মধ্যেই পরিস্থিতির বড় উন্নতি হয়েছে।”

নীলফামারির ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সোমবার রাত ১০টার দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়। 

আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পানি দ্রুত কমতে শুরু করে। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ মিটার যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে পানি কমতে শুরু করলেও এখনো ভোগান্তি শেষ হয়নি পানিবন্দি মানুষের। 

নদী তীরবর্তী গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আবজাল হোসেন বলেন, “সোমবার হঠাৎ পানি বাড়ায় চরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। সকাল থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ঘরবাড়ি থেকে পানি নামছে। তবে ঘরে পানি ঢোকায় আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি।”

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুঞ্জন বিশ্বাস পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোঁজ নিতে এসে মহিষখোচা স্পারবাঁধ এলাকায় সাংবাদিকদের বলেন, “জেলা প্রশাসকের দিক নির্দেশনায় আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। আমরা দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াব।” 

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, “গত মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের (তীর সংরক্ষণ) কাজ করা হয়েছে। এর ফলে নদীর মূল স্রোতধারা সরে যাওয়ায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে বড় ধরনের প্লাবন ঘটেনি।”

তিনি আরও বলেন, “আরও ১০ কিলোমিটার নদী শাসনের কাজ করা প্রয়োজন। সেটি সম্ভব হলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও লোকালয় প্লাবিত হবে না।”

বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান বলেন, “বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে আগেই চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা বিতরণ করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”