Published : 29 Jun 2026, 07:06 PM
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় সন্তানকে হত্যার দায়ে এক নারীকে ১৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন জানান।
দণ্ডিত আয়না বেগম (২৪) মির্জাপুর উপজেলার শিবপুর চন্দনপাড়া গ্রামের মো. জহিরুল ইসলামের স্ত্রী এবং দেলদুয়ার উপজেলা লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে।
মামলার বরাতে আইনজীবী বলেন, আয়না বেগম সন্তান জন্মের পর তার বাবার বাড়ি লাউহাটী মধ্যপাড়া গ্রামে অবস্থান করছিলেন। ২০২০ সালের ৩০ অগাস্ট সকাল ১১টার দিকে আয়না বেগমের স্বামী জহিরুল ইসলাম সংবাদ পান যে, তার ১৮ দিন বয়সের শিশু পুত্রকে পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পাওয়ার পর জহিরুল শ্বশুরবাড়ি লাউহাটী গ্রামে যান। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির পাশের খালের পানিতে ছেলের মৃতদেহ দেখতে পান।
পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৮ দিনের শিশু রায়হানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জহিরুল বাদী হয়ে তার স্ত্রী আয়না বেগমের বিরুদ্ধে দেলদুয়ার থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্ত শেষে দেলদুয়ার থানার এসআই মনোয়ার হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০২০ সালের ১৫ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। মামলায় নয়জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
আইনজীবী শফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, রায়ে আয়না বেগমকে শিশুপুত্র হত্যার দায়ে ১০ বছর এবং মরদেহ গুম করার অভিযোগে তিন বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া তাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের পর আয়না বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।