Published : 11 Jul 2026, 04:55 PM
খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্রে আসা মানুষজন বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন।
এদিকে প্রায় চার দিন বন্ধ থাকার পর দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বিকালের মধ্যে পুরোপুরি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।
শনিবার সকাল থেকে মাইনী নদীর পানি কমে যাওয়ায় দিঘীনালার নিচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। উপজেলার মেরুং বাজারের পানি অনেকটাই নিচে নেমে গেছে। ধীরে ধীরে বাজারের সবকিছু স্বাভাবিক হচ্ছে।

মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী হাসনাত আব্দুল হাই বলেন, “তিন দিন ধরে বাজার পানির নিচে ছিল। তবে শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে এবং মাইনী নদীর পানি কমে যাওয়ায় বাজার এখন অনেকটাই স্বাভাবিক।”
মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সমীরণ চাকমা বলেন, শুক্রবার রাত থেকে পানি কমতে শুরু করেছে এবং সকালবেলা পানি আরও কমেছে। বন্যা দুর্গত মানুষ ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। ধীরে ধীরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে মেরুং ইউনিয়নে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে ছিল, তাদের অধিকাংশ ঘরবাড়িতে ফিরে গেছে।
“এখন নিজেদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করছে, বসবাসের উপযোগী করছে। এখন সবমিলিয়ে দেড়শ পরিবারের একজন করে সদস্য আশ্রয়কেন্দ্রে আছে। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।”
অন্যদিকে চেঙ্গী নদীর পানি কমে যাওয়ায় খাগড়াছড়ি শহরের অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি সরে গেছে। তবে নিচু এলাকায় এখনও জলাবদ্ধতা রয়েছে। বন্যায় কৃষিজমি, সবজি ক্ষেত ও পুকুরের মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ৪০০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে। বন্যা দুর্গত একজন মানুষও যাতে ত্রাণ সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয় আমরা সেভাবে কাজ করছি।”