Published : 28 Dec 2025, 01:13 PM
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকেরা দ্বিতীয় দিনে ঢাকা-ময়মনসিংহ পথ অবরোধ করে আন্দোলন করছেন।
রোববার সকালে বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকেরা রেললাইনে অবস্থান নেন। এরপর ৯টার দিকে গফরগাঁও এলাকায় ‘বলাকা’ কমিউটার ট্রেনটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে এই স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যায় বলে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ময়মনসিংহের পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন।
এর আগে শনিবার বিকাল ৪টা থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের জেরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নেত্রকোণার জারিয়া ঝানজাইলগামী ‘বলাকা’ কমিউটার ট্রেন গফরগাঁও স্টেশনে এসে আটকা পড়ে। পরে রাতে ১টার দিকে ট্রেনটি ছেড়ে যায়।
এদিন বিকালে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্রে ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।

মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে আগুন দিয়ে অবরোধ করেন মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকেরা।
স্থানীয়রা বলছে, শনিবার বিকাল ৪টার দিকে গফরগাঁও উপজেলার শিবগঞ্জ রোড রেলক্রসিং এলাকায় বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আগুন দেন। এ ছাড়া উপজেলা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টেও আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে গফরগাঁও পৌর বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রেলপথের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেওয়ার কারণে রেললাইনের দুই পাশের বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকা পড়ে।
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ময়মনসিংহের পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “রেলপথের বিভিন্ন জায়গায় আগুন দেওয়ায় লাইন মেরামত শেষে শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছিল।
“পরে আবার গোলন্দাজ গেট এলাকায় রেলপথে আগুন দেওয়া হয়। এরপর রাত ১টার পর আটকে পড়া ১০টি ট্রেন ছেড়ে যায়।”

দলীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, এ আসন থেকে মনোনয়ন পাওয়া মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান ছাড়াও আরও পাঁচ নেতা বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে প্রচারে ছিলেন।
তারা হলেন- দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর মাহমুদ আলম, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, সদস্য মুশফিকুর রহমান, আল ফাত্তাহ ও মোফাখখারুল ইসলাম।
শনিবার মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী এ বি সিদ্দিকুর রহমান ও মুশফিকুর রহমানের সমর্থকেরা বিক্ষোভ শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে সড়কে আগুন দিয়ে দলীয় প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোববার গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) এন এম আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, “শনিবার রাত ২টা পর্যন্ত আমরা মাঠে থেকে রাস্তা ক্লিয়ার করি। সকালে এক জায়গায় আগুনের খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে।”
দলীয় মনোনয়ন বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গরফগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীদের প্রাণের দাবি ছিল বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমানকে মনোনয়ন দেবে দল।
“এছাড়াও জেলা বিএনপির সদস্য মুশফিকুর রহমান বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্তির জন্য অন্যতম দাবিদার। মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে দুর্বার প্রতিরোধ ও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
গরফগাঁও পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, “দলের ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করছে। মুশফিকুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন প্রদানের বিষয়টি আবারো বিবেচনার জন্য দাবি জানাই।”
গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হানিফ বলেন, “স্টেশনের কম্পিউটার সিস্টেম, সিগনাল লাইট, স্টেশনে সংযোগ লাইনের বক্সে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। স্লিপার তুলে নেওয়ায় সরে গেছে রেললাইন।
“এতে বিকাল ৪টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ ছিল। সকালে আরও দুই ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করে রাখা হয়। ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন কাজ করছে।”
গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ বিশ্বাস বলেন, “কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। আশা করছি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
এছাড়া সেনাবাহিনী কাজ করছে বলেও জানান তিনি।