Published : 19 Aug 2025, 04:59 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি ও অবস্থান পালন ধর্মঘট করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
তবে তাদের এই কর্মসূচিকে ‘ষড়যন্ত্র’ ও রাকসু নির্বাচন বাতিলের পাঁয়তারা বলে পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ। প্রতিবাদে দুপুরে ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের দাবির মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা বা অযৌক্তিকতা নেই। বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে- আমরা নাকি কোটার দাবিতে আন্দোলন করছি।
“আসলে ‘পোষ্য কোটার’ কবর রচনা হয়েছে অনেক আগেই। আমরা কোটার জন্য নয়, আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছি।”
এই আন্দোলন প্রশাসনকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করছে না দাবি করে অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমরা রাকসু ভন্ডুল কিংবার কারো অধিকারও হরণ করছি না।”
অফিসার সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোক্তার হোসেন বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, সিলেট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এসব সুবিধা থাকে, তাহলে আমরা বঞ্চিত হব কেন?

“প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা আমাদের প্রাপ্য, এটি আমাদের সন্তানদের অধিকার। উপ-উপাচার্যের ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।”
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে; প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান অফিসার সমিতির এই নেতা।
অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ফাহিম রেজা বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পোষ্য কোটা’র কবর বহু আগে রচিত হয়েছে। অথচ এখন এটিকে ইস্যু করে নতুন আন্দোলন শুরু হয়েছে। এতে জামায়াত ও বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের ঐক্যমত রয়েছে।
“আন্দোলন শুরুর এই সময়টাও অস্বাভাবিক, কারণ বুধবার থেকে রাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র উত্তোলন শুরু হবে। আমরা এটিকে ষড়যন্ত্র ও রাকসু নির্বাচন বানচালের পাঁয়তারা হিসেবে দেখছি।”
স্টুডেন্ট রাইটস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফাহির আমিন বলেন, “তারা বাংলাদেশকে ‘বৈষম্যহীন কোটাভিত্তিক’ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। কিন্তু আমরা চাই মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র। যদি কোটা ভিত্তিক রাষ্ট্র বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ৪৭-এর দেশভাগে অংশ নেওয়া পরিবার, ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান, এরশাদবিরোধী আন্দোলনকারীদের পরিবার, এমনকি বিপ্লবী আন্দোলনে নিহত বা আহতদের পরিবার সবাই কোটা চাইবে।
“এরপর আসবে চাচা কোটা, মামা কোটা, দলীয় কোটা। এত কোটার মধ্যে তরুণ প্রজন্মকে মূল্যায়ন করলে মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের যে আন্দোলন হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন, “ওনারা কর্মবিরতি পালন করলেও প্রশাসনের সঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও আলোচনা হয়নি। ‘পোষ্য কোটা’ যেহেতু বাতিল হয়েছে, তাই এ নিয়ে নতুন করে আন্দোলন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থবির করার সুযোগ নেই।
“আমরা সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যেটি ভালো হবে সেটি করার চেষ্টা করব।”
এর আগে ১৬ অগাস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহালসহ আট দফা দাবি উত্থাপন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
দাবিগুলো হলো- ভর্তিতে ‘পোষ্য কোটা’ পুনর্বহাল, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আবাসন সমস্যা সমাধান, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত চেম্বার বরাদ্দ ও গবেষণার অর্থ বৃদ্ধি, সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক পরিবেশ উন্নয়ন এবং দুর্নীতিবাজ ও নিপীড়কদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা।
এর আগে ২ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য স্থায়ীভাবে ‘পোষ্য কোটা’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।