Published : 06 Oct 2024, 07:50 PM
চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি মন্দিরে রাতের আঁধারে দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে।
পৌর এলাকার বটতলা হাট জয়নগর-মিরপাড়ার মা ভবানী দুর্গা ও কালীমাতা মন্দিরে শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী জয় কর্মকার ঘোষ জাননিয়েছেন।
জয় বলেন, “শনিবার রাত ১টার দিকে প্রতিমায় মাটি লাগানোর কাজ শেষ হয়। এক-দুদিনের মধ্যেই শুরু হতো রঙের কাজ। কিন্তু তা আর হলো না; ভেঙে দিয়েছে দুর্গা মায়ের প্রতিমা।”
রোববার সকালে সরে জমিনে দেখা যায়, মণ্ডপের সামনে হতাশ হয়ে বসে আছেন ভক্তরা। আর মন্দির এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন যাতায়াত করছেন; শুরু হয়েছে তদন্ত।
জয় কর্মকার বলছিলেন, “মা ভবানী দুর্গা ও কালীমাতা মন্দির দুইশ বছরেরও বেশি পুরানো। এখানে হিন্দু-মুসলিমের পাশাপাশি বসবাস। কোনো দিন কোনো সাম্প্রদায়িকতা ছিল না।
“এবার দুর্গা প্রতিমা ভাঙার ঘটনায় কলঙ্কিত হলো দুইশ বছরের সম্প্রীতির ঐতিহ্যের ইতিহাস। এর আগে এমন ঘটনা কোনোদিন ঘটেনি।”
শ্রী রাজপতি নামে এক ভক্ত বলেন, “সকালে এসে দেখি, দেবী দুর্গার মাথা, দশ হাত ও বাম পা ভাঙা। দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে সাপ ও সিংহের লেজ আর পা। সামনে মেঝেতে পড়ে আছে ভাঙা মাথা, হাত ও চুড়িসহ বিভিন্ন অংশ।”

মণ্ডপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ভক্ত মানবেন্দ্র ঘোষ বলেন, “আমরা এ সময় ব্যস্ত থাকব পূজার বাজার নিয়ে; ছেলে-মেয়েদের নিয়ে। সেখানে আমাদের দাঁড়াতে হয়েছে প্রতিমা ভাঙার আর্তনাদ নিয়ে। আমরা এর বিচার চাই।”
রিতা রানী কর্মকার বলেন, “প্রতি বছর এখানে দুর্গা উৎসবে পাড়া-প্রতিবেশী হিন্দু-মুসলমান মিলে আনন্দ উপভোগ করি। কিন্তু এবার আমাদের উৎসবের আয়োজনে জল ঢেলে দিল। আমরা তো কারো ক্ষতি করিনি। তবে আমাদের কেন এ ক্ষতি হলো?”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি এস এম জাকারিয়া জানান, রাতের আঁধারে দুর্গা প্রতিমা ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীদের সনাক্ত ও ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
এ পরিস্থিতিতে পূজা হবে কি-না জানতে চাইলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটার্জী বলেন, “পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার করার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই আমরা শারদীয় দুর্গাপূজা পালন করব।”