Published : 13 May 2026, 10:08 PM
লক্ষ্মীপুরে মারামারির একটি মামলায় আড়াই বছরের সন্তানকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া ফারহানা আক্তার শিল্পি জামিন পেয়েছেন।
বুধবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের বিচারক শাহ জামাল তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে জানিয়েছেন পেশকার দেলোয়ার হোসেন।
বিকালে তিনি বলেন, “আসামির কোলে দুধের শিশু ও বাড়িতে আরও দুই শিশু শিক্ষার্থী থাকায় বিচারক মানবিক বিবেচনায় তাকে জামিন দিয়েছেন।”
জামিনে মুক্তি পাওয়া ফারহানা আক্তার শিল্পি পৌরসভার সাহাপুর এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী।
আইনজীবী জানান, মারামারির একটি মামলায় সোমবার শিল্পি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এতে শিল্পিকে তার দুধের শিশুকে নিয়ে কারাগারে যেতে হয়।
প্রিজনভ্যানে ছোট শিশুকে কোলে নিয়ে বসে থাকা ও তার অপর দুই সন্তান গিয়ে কারা ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার একটি ছবি ফেইসবুকে ছড়ায়।
এ ঘটনার ছবিসহ প্রথমে আসামির আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন তার ফেইসবুকে একটি লেখা পোস্ট করেন। বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের নজরে পড়লে এ নিয়ে সংবাদ প্রচার করা হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।
সাত দিন পর জামিন চাওয়ার নিয়ম থাকলেও শিশুসহ মা কারাগারে এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় বুধবার শিল্পিকে জামিন দেয় আদালত।
শিল্পির আইনজীবী মহসিন কবির স্বপন বলেন, “ঘটনার ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় শিল্পিকে মারধর করা হয়। কিন্তু শিল্পির হাতে কোনো রড ছিল না। তিনি কাউকে আঘাতও করেনি। এ ছাড়া মেডিকেল সার্টিফিকেটে আঘাতটি সাধারণ ছিল বলে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসক।
“এতে ঘটনাটি জামিনযোগ্য হলেও শিল্পিকে কারাগারে পাঠায় আদালত। অবশেষে আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।”
শিল্পির ভাই মো. আবু ইউছুফ বলেন, শিল্পিকে জামিন পেয়েছেন। দুই দিন ধরে তার দুই ছেলে-মেয়ে বাড়িতে কান্নাকাটি করেছে।
দুই দিন আগে শিশুসহ কারাগারে আসা শিল্পি জামিনে মুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার রীতেশ চাকমা।
মারামারির মামলা থেকে জানা গেছে, মামলার বাদী মাহাতাব উদ্দিন ভূঁইয়া লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাহাপুর এলাকার প্রয়াত ছিদ্দিক উল্যাহ ভূঁইয়ার ছেলে। হামলার অভিযোগে ১৫ এপ্রিল তিনি সদর আদালতে মামলা করেন। এতে প্রতিবেশী শিল্পিসহ ১০ জনের নামসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়।