রাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রীর ‘শ্লীলতাহানি’, সহপাঠীর ওপর হামলার অভিযোগ

ব্যাংকিং এণ্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের ছাত্র রাকিব আল হাসান ও তার সহযোগী এক ছাত্রলীগ নেতাসহ কয়েকজন হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 July 2022, 12:51 PM
Updated : 27 July 2022, 12:51 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ও তার সহপাঠীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আরেক ছাত্র ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মমতাজউদ্দিন কলা ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান।

ওই ছাত্রীর সহপাঠীদের অভিযোগ, হামলায় ছাত্রীর পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং তার তিন সহপাঠী ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রী ও তার সহপাঠীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ব্যাংকিং এণ্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশন ও শহীদ হবিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাকিব আল হাসান ও তার সহযোগী ছাত্রলীগ নেতা আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন ছাত্রের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়।

ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করেন, তার ও রাকিব আল হাসানের বাড়ি একই জেলায় এবং তারা পূর্বপরিচিত। তাই মাঝেমধ্যে রাকিব তাকে বিরক্ত করতেন।

ঘটনার বিবরণে তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বাইরে থেকে খেয়ে হলে ফেরার পথে মমতাজউদ্দিন কলা ভবনের সামনে রাকিব তার পথ আটকান।

“আমি কথা বলতে আগ্রহ না দেখালে এবং এড়িয়ে চলে আসতে চাইলে সে পিছন থেকে আমাকে টেনে ধরে। এতে আমার জামা ছিঁড়ে যায়। পরে সে আমাকে থাপ্পড়ও মারে।”

ওই ছাত্রী বলেন, খবর পেয়ে তার কয়েকজন বন্ধু ঘটনাস্থলে গেলে রাকিবের সঙ্গীরা এসে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় ছাত্র উপদেষ্টা ও মতিহার থানার ওসি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তাদের থামানোর চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে ছাত্রীর সহপাঠীরাও প্রশাসন বরাবর আরেকটি লিখিত অভিযোগ দেন।

ওই অভিযোগে বলা হয়, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। এক পর্যায়ে তাদের হুমকি দেন রাবিক ও তার সঙ্গীরা। বিষয়টি ছাত্র উপদেষ্টাকে জানালে তিনি এবং মতিহার থানার ওসি উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি শুনছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এক পর্যায়ে দশ জনের মতো এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তাদের তিন বন্ধু আহত হন।

ছাত্র উপদেষ্টা ও ওসি বাধা দিলেও তারা হামলা চালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে রাকিব আল হাসান বলেন, ওই ছাত্রী তার পূর্বপরিচিত। তাদের মধ্যে এক বছর সম্পর্ক ছিল। গত ৫ মাস যাবত তাদের কথা হয় না। মঙ্গলবার রাতে তার দুইজন ভর্তি পরীক্ষার্থী আসার কথা ছিল। তাই মমতাজউদ্দিন কলা ভবনের সামনের একটি তাঁবুতে এক বান্ধবীসহ তিনি বসে অপেক্ষা করছিলেন।

“এমন সময় সে (ওই ছাত্রী) তার এক বান্ধবীসহ আমার সামনে এসে আমার বান্ধবীর পরিচয় জানতে চাইলে তার সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে ও আমাকে থাপ্পড় মারে। তখন আমিও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তাকে একটা থাপ্পড় মারি।”

রাকিব আরও বলেন, এ সময় রাস্তার বিপরীত দিক থেকে ওই ছাত্রী চার-পাঁচজন বন্ধু আসে এবং তাদের কয়েকজন তাকে চড়-থাপ্পড় এবং কিল-ঘুষি মারে। এ সময় আশেপাশে থাকা কয়েকজন তাদের সরিয়ে দেন।

“পরে ওর (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী) বন্ধুরা ছাত্র উপদেষ্টা স্যারকে কল দিলে তাৎক্ষণিক তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর আমার বন্ধুরা স্যারের সঙ্গে কথা বলতে আসলে ওর বন্ধুরা আমাকে ও আমার এক বন্ধুর ওপর আবার আক্রমণ করে। এ সময় ছাত্র উপদেষ্টা স্যার আক্রমণটা থামিয়ে আমাকে ও আমার আরেকটা বন্ধুকে উদ্ধার করেন। এরপরে বিপরীত পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে স্যার নিজের দপ্তরে চলে যান।”

এরপর তার বন্ধুরাও হলে ফিরে যান বলে রাকিব জানান।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আহত নয়ন আলী অভিযোগের মুখে থাকা রাকিবকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি শুনে ওখানে যাওয়ার পরও দেখি আমাদের সামনেই রাকিব আমার বান্ধবীকে মারছে। এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে রাকিব ও তার বন্ধুরা আমাদের হুমকি দেয়। বিষয়টি ছাত্র উপদেষ্টাকে জানালে তিনি এবং মতিহার থানার ওসি উপস্থিত হয়ে ঘটনাটি শুনছিলেন। এক পর্যায়ে রাকিব ও তার ছাত্রলীগ বন্ধু আরিফ হোসেনসহ দশ জনের মতো এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে একই বিভাগের আহসান আলী নাঈম, শুভ ঘোষ ও আমি আহত হই।”

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্র উপদেষ্টা এম. তারেক নূর বলেন, “গতকাল রাতে এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের খবর শুনে মতিহার থানার ওসিসহ আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে হলে পাঠিয়ে দিয়ে পুরো ঘটনাটি সহপাঠীদের কাছে শুনছিলাম। এ সময় রাকিব ও তার বন্ধু ছাত্রলীগকর্মী আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে ভুক্তভোগীর বন্ধুদের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়।”

এ বিষয়ে অভিযোগপত্র পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “তাৎক্ষণিক বিষয়টি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এছাড়া আজ উপ-উপাচার্যের সঙ্গে ভুক্তভোগীদের কথা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা যথাযথ এবং কঠোর পদক্ষেপ নেব।”

নবাব আব্দুল লতিফ হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন বলেন, “আমার বন্ধুকে মারধর করা হচ্ছে শুনে আমাদের বিভাগের অনেকে ঘটনাস্থলে আসি। সেখানে আসার পর আমরা কাউকে কোনো প্রকার মারধর করিনি। এই বিষয়টি আমাদের বিভাগের শিক্ষকদের মৌখিকভাবে জানিয়েছি এবং লিখিত অভিযোগও দেব।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক