Published : 26 Sep 2025, 08:08 PM
সিলেট নগর ও বিভিন্ন উপজেলার ৬১৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা শুরু হবে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে। পূজা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এছাড়াও জেলায় এবার প্রথমবারের মতো শারদীয় দুর্গাপূজায় কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়েছে।
নগরীর কালিবাড়ি, বাগবাড়ি ও দাড়িয়াপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, মৃৎ শিল্পীদের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় পূর্ণরুপে ফুটে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন দুর্গা প্রতিমা। প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে সাজসজ্জার কাজ চলছে পুরোদমে। প্রতিটি মন্দিরের গেইট, প্যান্ডেল ও প্রবেশ পথে লাইটিং ও সাজসজ্জা করা হচ্ছে।
নগরীর বাগবাড়ির বাসিন্দা সাগর তালুকদার বলেন, “প্রতি বছরই পূজা উপলক্ষে নতুন কাপড় কেনা হয়। এবারও নতুন কাপড় কিনেছি সবার জন্য।
“নগরীর বিভিন্ন দোকানে ডিসকাউন্ট দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে, কারণ দোকানগুলোতে মানুষজনের ভিড় চোখে পড়েছে।’’
সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর শাখা বলছে, সিলেটে এবার ৬১৮ মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে পূজা আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স ব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’’
মূলত মহালয়ার প্রথম পর্বে মণ্ডপে-মণ্ডপে চণ্ডীপাঠ, মঙ্গলঘট স্থাপন, ঢাক-ঢোল ও শঙ্খ বাজিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
হিন্দু শাস্ত্র মতে, মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা-এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষে শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরে অবস্থিত শ্রী শ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মহাঅষ্টমীর দিন বেলা দেড়টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য সর্বস্তরের ভক্তবৃন্দ ও জনগণের সর্বাত্বক সহযোগিতা-উপস্থিতি কামনা করেছেন মহাপীঠের সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক জনার্দন চক্রবর্তী মিন্টু।
নগরীর পনিটুলা দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সহসভাপতি সজল ঘোষ বলেন, “আমাদের সিলেটে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সম্প্রীতির ইতিহাস রয়েছে। সিলেটে সব ধর্মের মানুষ দুর্গাপূজা দেখতে আসেন, আনন্দ ভাগ করে নেন।
“সকল ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণিপেশার মানুষের জন্য একটি মানবিক দেশ গড়ে উঠুক। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় সম্প্রীতিই বাংলাদেশের সৌন্দর্য। সিলেটে নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠান পালনে সবাইকে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক থাকতে হবে।’’
তিনি বলেন, “বর্তমানে পূজোর যাবতীয় উপকরণ, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চণ্ডীপাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতী, ভজন কীর্ত্তন, আলোকসজ্জা ও ডেকোরেশনসহ নানা প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
“পূজার আয়োজনকারী প্রতিটি কমিটি ও পারিবারিক পূজা উদ্যোক্তারা এখন সর্বশেষ নান্দনিক সুন্দর আয়োজনের জন্য বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’’
পঞ্জিকা অনুযায়ী এবার মহালয়ার সপ্তম দিন আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে পাঁচদিনের দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর সপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বও অষ্টমী, অক্টোবরের ১ তারিখ নবমী এবং ২ অক্টোবর দশমীর সন্ধ্যায় বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি হবে।
এবার দেবী দুর্গার আগমন হবে গজে অর্থাৎ হাতির পিঠে চড়ে। গজে আগমন বা গমন হলে বসুন্ধরা শস্য শ্যামলা হয়। দশমীতে দেবীর মর্ত্যলোক ছাড়বেন দোলায় চড়ে। আর দোলায় দেবীর গমনকে
মহামারী বা মড়কের ইংগিত ধরা হয়।
পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক চন্দন দাশ বলেন, ‘‘পূজা উপলক্ষে আমাদের সব প্রস্তুতি ঠিকভাবে চলছে। প্রশাসনসহ সবাই আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।’’
শারদীয় দূর্গাপূজা নির্বিঘ্নে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে যাতে অনুষ্ঠিত হয় সেজন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সিলেটে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান।
তিনি বলেন, “এবার সিলেটে কড়া নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলার বাহিনীরর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পূজার সার্বিক নিরাপত্তায় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও হটলাইন নম্বর চালু থাকবে।
“পাড়া-মহল্লায় পরিবেশ ঠিক রাখতে ড্রোন উড়ানোর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ে নিয়োজিত থাকবে এসএমপির সাইবার টিম।”
এছাড়াও যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি ।