Published : 08 Apr 2026, 06:42 PM
বানর বন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই এই প্রজাতির প্রাণীদের রক্ষায় সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বন কর্মকর্তা ও পরিবেশবাদীরা।
বুধবার সকালে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙার পিটাছড়ায় ব্যতিক্রমধর্মী ‘প্রাইমেট ফেয়ার-২০২৬’ এর আলোচনায় বক্তারা এই আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের বানর গোত্রীয় প্রাণী সংরক্ষণ এবং বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে এই মেলার আয়োজন করা হয়।
জার্মানভিত্তিক সংগঠন প্লামলরিস ই.ভি. বাংলাদেশ এবং পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল, বন্যপ্রাণী গবেষক হাসান আল রাজি।
মেলায় খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলুটিলা বটতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত। তাদের সামনে বানরগোত্রীয় প্রাণী, তাদের আবাসস্থল এবং প্রকৃতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া বায়োস্কোপ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির বানরের সঙ্গে পরিচিত করা হয় শিক্ষার্থীদের।
অনুষ্ঠানে গান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে সংরক্ষণ বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। মেলায় অংশ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, বানর বন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু সচেতনতা বৃদ্ধি করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়ক।

তিনি বলেন, মাটিরাঙাসহ আশপাশের এলাকাগুলো লজ্জ্বাবতী বানর, চশমাপরা হনুমান ও মুখপোড়া হনুমানসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাইমেট রয়েছে। তবে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অর্থাৎ স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করেই এসব প্রাণীগুলো রক্ষা করতে হবে। বন্যপ্রাণী প্রকৃতির খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাদের রক্ষা করতে হবে।”
পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাহফুজ রাসেল বলেন, “যারা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করেন তাদের অনেকের মধ্যে বানরের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে অনীহা দেখা যায়। সেই জায়গা থেকে প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বানরের সুরক্ষায় কাজ শুরু করেছি।

“আমরা দুটো স্কুলের কয়েকশ শিক্ষার্থীকে বানর সম্পর্কে ধারণা দেব। এতে নির্বিচারে বানর হত্যা বন্ধ হবে মনে করি। মানুষ যাতে বানরসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী হত্যা করতে না পারে সেজন্য আমরা কাজ করছি।”
প্লামলরিস ই.ভির টিম লিডার ও বন্যপ্রাণী গবেষক হাসান আল রাজী চয়ন বলেন, “বানর গোত্রীয় প্রাণীরা বন সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটা প্রাণীর একটা ইকোসিস্টেম আছে। পার্বত্য এলাকায় পাহাড় থাকলেও ইকোসিস্টেমটা নেই। এখানে বন ধ্বংসের পরিমাণ বেশি। এসব জায়গায় বানরের সুরক্ষার জন্য আমরা এ ধরনের প্রাইমেট ফেয়ারের আয়োজন করি।”
মেলায় প্লামলরিস ই.ভির এনিমেল কেয়ার ও রিসার্চ কো-অর্ডিনেটর মারজান মারিয়া, বনবিভাগের খাগড়াছড়ি সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন, মাটিরাঙা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান লস্কর উপস্থিত ছিলেন।