Published : 28 Jan 2026, 02:37 PM
সমতলের আদিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই দরিদ্র ও অবহেলিত। অনেকে এখনও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন ও শ্রমজীবী মানুষের শোষণ-মুক্তির জন্য ভোট চাইছেন বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী শিপন রবিদাস।
ধুনট ও শেরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বেশ আদিবাসী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে। শিপন নিজে উচ্চশিক্ষিত। মানুষের নানা সংকটে পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। ফলে মানুষ তার কথা শুনছে। অনেকে তার প্রচারেও শামিল হচ্ছেন।
শিপন রবিদাস বলছিলেন, “এটাই আমার একমাত্র আশা। মানুষের ঘরে ঘরে যাচ্ছি। শুধু ভোটের কথা না, তাদের সমস্যার কথাও তারা আমাকে বলছে। কারণ, তারা মনে করে, ভোট শেষে এই সমস্যা শেষ হবে না। আমি যেন তাদের পাশে থাকি।”

শিপন দাবি করেন, তিনি রাজশাহী বিভাগের একমাত্র ‘আদিবাসী’ প্রার্থী। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির কাস্তে প্রতীকে লড়ছেন।
শিপন বাংলাদেশ রবিদাস ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব এবং বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক।
জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, বগুড়া-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ লাখ ৭৩ হাজার ৫৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ জন।
এ আসনে শিপন কুমার রবিদাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর উপজেলা কমিটির আমির দবিবুর রহমান, এলডিপির কুদরত-ই-সাকলাইন, ইসলামী আন্দোলনের মীর মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান।
শিপন কুমার রবিদাস বলছিলেন, “নির্বাচন কমিশনের হিসাবে হিজড়াদের সংখ্যা থাকলেও মোট আদিবাসী, দলিত (সুইপার) সম্প্রদায় নেই। অথচ, ধুনটে ৩০ হাজার এবং শেরপুরে ৪০ হাজার আদিবাসী মানুষ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
“ভোটের প্রচারে সব আদিবাসী আমাকে সমর্থন দিয়েছে। সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায় এবং দলিত সুইপাররাও আমাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ভোটের মাঠে এখন আমিই ‘বড় ফ্যাক্টর’ এবং আশাবাদী।”
শিপনের জন্য কাজ করার কথা জানান বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি শ্রীকান্ত মাহাতো।
তিনি বলেন, “এরই মধ্যে আমাদের সংগঠনের নেতাদের বলা হয়েছে, আদিবাসী প্রার্থী শিপন কুমার রবিদাসের পক্ষে কাজ করার জন্য। আমি নিজেও তার পক্ষে ধুনট-শেরপুরে কাজ করছি। কারণ, একদিকে সে শিক্ষিত ইংরেজিতে এম এ পাশ এবং দক্ষ একজন সংগঠক।”
বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত অধিকার আন্দোলন শেরপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাস বলেন, “আমার আদিবাসী সদস্যদের ঘরে ঘরে যাচ্ছি এবং তাদের ভোট দিতে বলছি। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, আদিবাসী হিসাবে অন্য আদিবাসীকে ভোট দেওয়ার জন্য। সাড়াও পাচ্ছি ভালো।”
জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ধুনট উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন কর্নিদাস বলেন, “আদিবাসী এলাকায় গিয়ে ঘরোয়া বৈঠক করে ভোট প্রার্থনা করছি। তাদের বুঝাচ্ছি যে, আমরা অবহেলিত সমাজ। তাই আমাদের একজন প্রতিনিধি জাতীয় সংসদে থাকা উচিত। আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন শিপন কুমার রবিদাসকে ভোট দেবে বলে জানিয়েছেন।
“যদি আদিবাসী এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভোট দেয় তাহলে মাঠে আমরা শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠব।”
শেরপুর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বরেন সান্ন্যাল বলেন, শুধু শেরপুর উপজেলাতেই ৪০ হাজার হিন্দু-আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভোটার আছেন। ধুনটের হিসাব দিতে পারেননি তিনি।