জাজিরায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন, বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদী শাসনের দাবিতে নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছে ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা গ্রামের বাসিন্দারা।

কে এম রায়হান কবীরশরীয়তপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 10:01 AM
Updated : 22 Sept 2022, 10:01 AM

সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র।

স্থানীয়রা বলছেন, এতে একদিকে মারাত্মক ‘ঝুঁকিতে’ রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু; অন্যদিকে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে পদ্মাপারের চার গ্রাম।

অবৈধ বালু তোলা বন্ধ ও নদী শাসনের দাবিতে জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকার পাইনপাড়া গ্রামের মাঝিরহাট এলাকার নদীর পাড়ে মঙ্গলবার মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান সোহেল বলছেন, কিছু ড্রেজারের অনুমতি থাকলেও অনেক অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হচ্ছে। তবে তা বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন তারা।

জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকার পাইনপাড়া এলাকার আব্দুল লতিফ বেপারী, আব্দুল মালেক মোস্তাক ও হাকিম মজুমদারসহ স্থানীয়রা জানান, নাওডোবা এলাকায় দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতুর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শত শত অবৈধ ড্রেজার চলছে। এ এলাকায় বালু উত্তোলনের মহাউৎসব চালাচ্ছে একটি চক্র।

প্রতিদিন প্রতিটি ড্রেজার দিয়ে কাটা হচ্ছে এক লাখ থেকে দুই লাখ ঘনফুট বালু। শতাধিক ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি ঘনফুট বালু। এ সকল বালু বিক্রি করা হচ্ছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

এভাবে বালু উত্তোলনের কারণে ভাঙনের মুখে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের পাইন পাড়া, আহাম্মদ মাঝির কান্দি, আলিম উদ্দিন বেপারী কান্দি ও আলম খার কান্দি গ্রাম। এ সব গ্রামের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭-৮টি মসজিদ, দুইটি মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও একটি গুচ্ছগ্রামসহ প্রায় এক হাজার পরিবার মারাত্মক ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও নদী শাসনের দাবিতে মঙ্গলবার মানববন্ধনে স্থানীয় আব্দর রাজ্জাক মাঝি, আব্দুল লতিফ বেপারী, মালেক মোস্তাক, আব্দুল হাকিম মজুমদার, মো. আলী মৃধা, আবুল কালাম মাঝি, মতিউর রহমান টেপা, আনোয়ার হোসেন মাঝি ও ফজলুল হকসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।

আব্দর রাজ্জাক মাঝি বলেন, “আমরা আমাদের বাপ দাদার ভিটা-মাটি পদ্মা সেতুর জন্য দিয়েছি। আজকে পদ্মা সেতু হয়েছে, আমরা অনেক খুশি। এখন অপরিকল্পিতভাবে পদ্মা সেতুর নিচ থেকে বালু কেটে নিচ্ছে। তাতে আমরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছি। এভাবে চললে আমাদের এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।”

বক্তারা অভিযোগ করেন, জাজিরার স্থানীয় ১০-১৫ জন ও মুন্সীগঞ্জের কিছু অসাধু ড্রেজার ব্যবসায়ীর চক্র এখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নিচ্ছে। তাদের মধ্যে জাজিরা এলাকার ড্রেজার ব্যবসায়ী তুহিন ফরাজী, চুন্নু মাদবর, বাচ্চু মাদবর ওরফে কালা বাচ্চু, দবির মোল্লা, সুলতান মোল্লা এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার সেলিম দেওয়ান, মতি মাদবর ও জহের ফকিরসহ একাধিক ড্রেজার ব্যবসায়ী রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড্রেজার ব্যবসায়ী বাচ্চু মাদবর বলেন, “আমরা সেতু বিভাগের অনুমতি নিয়ে বালু কাটছি।”

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান বলেন, “মায়ের আঁচল, সাদ এন্টারপ্রাইজ, মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ ও দেওয়ান এন্টারপ্রাইজ সহ শতাধিক অবৈধ ড্রেজার রয়েছে। আমরা গত কয়েক দিনে ২১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছি। তারপরও থামানো যাচ্ছে না এসব অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের।”

জাজিরা সীমান্তে অবৈধ ড্রেজার বন্ধে ধারাবাহিক অভিযানে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক