Published : 05 Oct 2025, 07:32 PM
কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে লালমনিরহাটসহ তিস্তার বাম তীরবর্তী জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার বিকাল ৩টার দিকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৪ মিটার, যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে ছিল।
কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই তা বেড়ে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপরে উঠে যায় বলে জানিয়েছেন ডালিয়া পয়েন্টের পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
এছাড়া বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত অন্তত ১২ ঘণ্টা তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপরে থাকতে পারে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ডুবে গেছে মাছের খামার, আমন ধান ও সবজির ক্ষেত। চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকাই এখন একমাত্র চলাচলের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সিন্দুর্না এলাকার কৃষক আমিনুল হক বলেন, “দুপুরের পর থেকেই পানি বাড়ছে নদীতে। নিম্নাঞ্চলের অনেকের ঘরে পানি ঢুকেছে। বন্যার আতঙ্কে আমরা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি।”
গোবর্দ্ধন গ্রামের কৃষক আবু বক্কর বলেন, “চরাঞ্চলের রাস্তা ডুবতে শুরু করেছে। আমন ধানের খেতগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। সময় যত যাচ্ছে, পানি ততই বাড়ছে।”
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, “উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণের কারণে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। দুপুরে তা বিপদসীমার নিচে থাকলেও সন্ধ্যার মধ্যে উপরে উঠেছে। তীরবর্তী এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
তবে আগামী ১২ ঘণ্টায় পানি কমে গেলে লোকালয়ে ঢোকার ঝুঁকি কমে যাবে বলে জানান তিনি।