Published : 19 Nov 2025, 08:24 PM
রাঙামাটি জেলা পরিষদে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হরতালের ডাক দিয়েছে একদল চাকরিপ্রার্থী।
বুধবার বিকালে শহরে বনরুপায় একটি রেস্তোরাঁয় ‘কোটা বিরোধী ঐক্যজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকের’ ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষে শিক্ষার্থী ইব্রাহিম রুবেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতা রাকিব হাসান, শিক্ষার্থী নুরুল আলম, রুবেল হোসেন, রেজাউল করিম রাজু এবং ইমাম হোছাইন বক্তব্য দেন।
তারা বলেন, জেলা পরিষদে কোটা বৈষম্য বাদ দিয়ে সঠিকভাবে নিয়োগ প্রদানের জন্য তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর পরেও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের সমাধান দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে হরতালের কর্মসূচি দিয়েছেন তারা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোনো কোটার কথা নেই এবং শূন্য পদের সংখ্যাও পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি। সরকার নির্ধারিত সাত শতাংশ কোটার বিধান উপেক্ষা করে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ৭০ শতাংশ ‘উপজাতি’ ও ৩০ শতাংশ বাঙালি কোটা অনুসারে নিয়োগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে; যা দুঃখজনক।
তারা বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। কোটা প্রথার নামে বৈষম্য আর মেধা হত্যার সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না তারা।
আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর হরতাল চলাকালে জেলা শহরের সব সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, “হরতাল দেওয়া হয়েছে শুনেছি। তারা তাদের কাজ করবে। আমরা আমাদের মত কাজ চালিয়ে যাব।”
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের ২৮টি বিভাগ জেলা পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগও রয়েছে। ২১ নভেম্বর প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হবার কথা রয়েছে; এতে অংশ নেবে প্রায় সাত হাজার আবেদনকারী।