১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সামরিক খাতে লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ চান বিএনপির বুলু

বিরোধী দলীয় নেতাকে তিনি বলেন, “আপনি দোয়া করবেন, এ সংসদে যেন আমাদের সবার ঈমান-আকিদা ফেরত আসে।”

সামরিক খাতে লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ চান বিএনপির বুলু
জাতীয় সংসদ অধিবেশনের ফাইল ছবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jun 2026, 06:49 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:31 PM

দেশের ‘আত্মরক্ষার প্রস্তুতির’ জন্য সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে এক লাখ কোটি টাকা করার দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালী-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ কারও বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না; তবে আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ইরান ও উত্তর কোরিয়ার উদাহরণ টেনে বুলু বলেন, “বাংলাদেশের সামরিক খাতে ৪২ হাজার কোটি টাকা নয়, এক লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশের সামরিক খাতে বাজেট করা উচিত। 

“বাংলাদেশ কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না; কিন্তু আত্মরক্ষার জন্য আমাদের প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।”

প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা, বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।

নতুন বাজেটকে ‘জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব ও গণমুখী’ বর্ণনা করে বুলু বলেন, বাজেট নিয়ে তিনি বিশেষ বক্তব্য দেবেন না; কারণ তিনি এ বিষয়ে ‘বিশেষ অভিজ্ঞ ব্যক্তি’ নন।

নিজের সংসদীয় এলাকা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ নিয়ে বুলু বলেন, নোয়াখালী দেশের ধনী জেলা এবং বৃহত্তর বেগমগঞ্জ ধনী উপজেলা। দেশের রাজস্ব ও জিডিপিতে নোয়াখালী ও বেগমগঞ্জের মানুষ যে অবদান রাখেন, সে বিবেচনায় বাজেটে এ এলাকার জন্য বিশেষ নজর থাকা উচিত।

বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বুলু বলেন, তিনি সংসদে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন; আবার কিছুদিন আগে জনসভায় বলেছেন, অতি শিগগির বাংলাদেশে আরেকটি বিপ্লব সংঘটিত হবে।

বুলু বলেন, “চার মাসের একটি সরকার। এখানে সবার ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার এসেছে। উনি এ কথাটি বললেন, আমি অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছি।”

তিনি বলেন, “চার মাসের সরকারের বিপ্লব—কী বিপ্লব হবে, আল্লাহ জানে।”

নির্বাচনের সময় ধর্ম ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, তার এলাকায় একটি স্লোগান ছিল—আসিয়া যদি ফেরাউনের স্ত্রী হয়েও বেহেশতে যেতে পারেন, তাহলে নারীরা কেন পারবেন না।

তিনি বলেন, “আমাদের মা-বোনদের যে ঈমান-আকিদা নষ্ট হয়েছে। আমরা সবাই ফেরাউন হয়ে গেলাম আর আমাদের স্ত্রীরা, মা-বোনরা সবাই আসিয়া হয়ে গেল।”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বুলু বলেন, আসিয়া কেন বেহেশতে যাবেন, তা আল্লাহ কোরআনে বলে দিয়েছেন। কিন্তু ভোটের সময় টাকা, চালসহ নানা প্রলোভনের মাধ্যমে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করা হয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে বিরোধী দলের নেতার কাছে ‘দোয়া দিবস’ ঘোষণার আহ্বান জানান বুলু।

তিনি বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলের নেতার কাছে আমার একটা আবেদন থাকবে, আপনি একটি দোয়া দিবস জাতির সামনে পেশ করবেন। আপনি দোয়া করবেন, এ সংসদে যেন আমাদের সবার ঈমান-আকিদা ফেরত আসে।”

বুলুর কথায়, “এই যে আমরা সবাইকে আসিয়া বানায়ে ফেললাম, আর আমরা সবাই ফেরাউন হয়ে গেলাম; এই ফেরাউন থেকে আমরা যেন ফেরত আসি, আর আমাদের মা-বোনরা যেন আসিয়া থেকে ফেরত আসে।”

১৯৪৬-৪৭ সালের উপমহাদেশের রাজনীতির প্রসঙ্গও তোলেন বরকত উল্লাহ বুলু। 

তিনি বলেন, ১৯৪৬ সালে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ ও হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব এবং যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলসহ সিডিউল কাস্টের নেতারা মুসলিম লীগের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

বুলুর ভাষ্য, সে সময় তাদের ভোটের কারণে পূর্ব বাংলার পাঁচটি জেলা পাকিস্তানের অংশ হয়েছিল।

নোয়াখালী-৩ আসনের এমপি বলেন, উচ্চবর্ণের হিন্দুরা ড. বি আর আম্বেদকরকে বোম্বেতে ভোট দেয়নি; পরে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের সহায়তায় তিনি যশোর-খুলনা আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বুলু বলেন, “সেদিন উচ্চবর্ণের হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ডক্টর যোগেন্দ্রনাথের একটি সংগ্রাম ছিল। মুসলিম লীগের একটি সংগ্রাম ছিল। তারা এ দেশের মানুষের মুক্তির জন্য একসাথে কাজ করেছেন।”

সাম্প্রতিক নির্বাচনে হিন্দু ভোটের প্রসঙ্গ টেনে বুলু বলেন, দেশের হিন্দুরা বাংলাদেশ রক্ষার জন্য বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এবারও তারা বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য সমস্ত হিন্দু ভাইয়েরা, শতকরা ৯৯ হিন্দু ভাই, এই বিএনপির ধানের শীষে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতীক, স্বাধীনতার মহান ঘোষক, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতীক, ধানের শীষের প্রতি ভোট দিয়ে তারা বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার চেষ্টা করে।”

কেন তারা ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন—এমন প্রশ্ন করেছিলেন দাবি করে বুলু বলেন, “আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেছি। কয়, ‘আমরা ১৯৭১ সাল আর দেখতে চাই না। আমরা এক কোটি মানুষ সেদিন ভারতে নির্বাসিত হয়েছিলাম। আমরা রিফিউজি হয়েছিলাম’।”

বাজেট প্রণয়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকাল অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি।

বুলু বলেন, “জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে উনার সাড়ে চার বছরের ক্ষমতায় উনি যেভাবে দেশকে উন্নয়ন করেছেন… উনার বাজেটের দিকে তাকালে, উনার দেশ শাসনের দিকে তাকালে, উনার দেশপ্রেমের দিকে তাকালে বাংলাদেশের সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে।”

নারী শ্রমিকদের জন্য গাজীপুর ও সাভারে একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল করার প্রস্তাবও দেন বরকত উল্লাহ বুলু।