Published : 27 Jun 2026, 06:44 PM
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘানার ম্যাচের পর কেটে গেছে তিন দিন। সেদিনের বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে এখনও ক্ষুব্ধ ঘানা। শেষ গ্রুপ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে ওই প্রসঙ্গ আবারও টেনেছেন দলটির কোচ কার্লোস কেইরস ও ফরোয়ার্ড অ্যান্তোয়ান সেমেনিও। দুইজনেই রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ম্যানচেস্টার সিটির ফুটবলার সেমেনিও তো সংবাদ সম্মেলনে এসে রেফারিদের একরকম হুমকিই দিয়েছেন। তার মতে, নিজেদের দাবি আদায়ে পুরো দলের উচিত রেফারির ওপর আরও বেশি চাপ সৃষ্টি করা। প্রয়োজনে দলের সব খেলোয়াড়দের রেফারিকে ঘিরে ধরতে বলেছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গত মঙ্গলবার গোলশূন্য ড্র করে ঘানা। সেদিন ইংল্যান্ডের বক্সে প্রিন্স এদুকে শূন্যে ভাসমান অবস্থায় এজরি কন্সার করা চ্যালেঞ্জের পর পেনাল্টির জোর আবেদন জানায় ঘানা। কিন্তু রেফারি সাইদ মার্তিনেজ কোনো সাড়া দেননি। এমনকি ভিএআরও বিষয়টি দেখার প্রয়োজন মনে করেনি।
৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঘানা শনিবার ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে। ম্যাচটিতে হার এড়াতে পারলেই নকআউটে জায়গা করে নেবে তারা। গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে গত ম্যাচের রেফারিং নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তোপ দাগেন সেমেনিও।
“খেলোয়াড় হিসেবে, আমাদের রেফারিকে ঘিরে ধরতে হবে এবং প্রতিবাদ করতে হবে। এমন কিছু বলতে পারেন।”
“আমার মনে হয়, দল হিসেবে অফিসিয়ালদের ওপর আমাদের আরও চড়াও হতে হবে। খেলোয়াড়রা হয়তো আরও কিছুক্ষণ মাটিতে পড়ে থাকতে পারে কিংবা সাইডলাইনে কোচরা চতুর্থ রেফারিকে ক্রমাগত বিরক্ত করতে পারে।”
ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপে ডাগআউট সামলানো ঘানা কোচ কেইরসের মতে, এই ধরনের পরিস্থিতি তার খেলোয়াড়দের কঠিন দোটানায় ফেলে দেয়।
“এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সবাই আমার কাছে এসে বলে, ‘আপনার খেলোয়াড়রা তো প্রতিবাদই করেনি।’ কিন্তু তারা যদি প্রতিবাদ করে, তাহলে হলুদ কার্ড পায়। ফলে আমরা বুঝতে পারি না ঠিক কী করা উচিত।”
ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তির প্রথম ব্যবহারের পর ১০ বছর কেটে গেলেও এর প্রয়োগ নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেন কেইরস।
“ভিএআর ২০১৬ সালে চালু হয়েছিল, আর ২০১৮ ছিল প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে এটি ব্যবহার করা হয়।”
“দশ বছর কেটে গেছে। ভিএআর প্রযুক্তি এর চেয়ে উন্নত না হওয়ার কোনো অজুহাত বা কারণ থাকতে পারে না। কোনো অজুহাতই চলে না। তাই ফিফা কর্তৃপক্ষের এখন সময় এসেছে পর্দার আড়ালে কী ঘটছে তা খতিয়ে দেখার।”