Published : 18 Apr 2026, 11:33 AM
মাদারীপুর সদরের এক বাজারে ছয়টি স্বর্ণের দোকানসহ সাত দোকানে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এতে নগদ টাকাসহ কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শীকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে আহত করেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল।
শনিবার ভোরে উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের হাউসদী বাজারের স্বর্ণকার পট্টিতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বরাতে পুলিশ জানায়, ভোরে মুখোশধারী এক দল ডাকাত সদস্য প্রথমে নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্সের তালা কেটে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।
এ সময় বাজারে মিলন মোল্লা নামে এক রাজমিস্ত্রি রাত্রিকালীন (নাইট শিফট) রাজমিস্ত্রির কাজ করছিল। তিনি ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় তাকে মারধর করে বেঁধে রাখে ডাকাতরা।
পরে পাশের একটি মুদি দোকানসহ আরো পাঁচটি স্বর্ণের দোকানে একইভাবে দোকানের আলমারি ও ক্যাশ বাক্স ভেঙে টাকা ও সোনা ও রুপার অলঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দলের সদস্যরা।

ডাকাতিতে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো হল- শ্রীশ্রী জগদীশ ঠাকুর জুয়েলার্স, নিউ নারায়ণ জুয়েলার্স, ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্স, নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্স, নিউ কনিকা জুয়েলার্স, মা লক্ষ্মী জুয়েলার্স ও মুদি দোকান জিয়া স্টোর।
ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্সের মালিক সেন্টু মাল বলেন, “আমার দোকানে ৩০ ভরি স্বর্ণ, ৫০০ ভরি রূপা ছিল ও ক্যাশ বাক্সে প্রায় এক লাখ টাকা ছিল। সবই লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি।
“এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার কোনো শক্তি এখন আর আমার নেই। আমি এখন কী করবো, কিছুই বুঝতে পারছি না।”
নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্সের মালিক পরিমল মাল বলেন, তার দোকারে আড়াই ভরি স্বর্ণ ও এক কেজি রুপার গহনা ছিল। এছাড়া তার ক্যাশ বাক্সে নগদ ৯৫ হাজার টাকা ছিল। সবই ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের ছয় দোকানে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা মিলে অন্তত তিন কোটির টাকার লুট জিনিসপত্র লুট করেছে ডাকাতরা।
ওসি আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, হাউসদী বাজারের কয়েকটি স্বর্ণের দোকানের ডাকাতির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।