Published : 01 Jan 2025, 10:49 PM
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার দুপুরে উপজেলার ঘুটাবাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে পাথরঘাটা থানার ওসি মেহেদি হাসান জানিয়েছেন।
হত্যার শিকার নাসির উদ্দীন (৩৫) পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. শাহজাহানের ছেলে।
তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছেন পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক।
তার দাবি পূর্বে ছাত্রলীগ ও বর্তমানে ছাত্রশিবির কর্মী পরিচয় দেওয়া রাব্বি ও হাসান তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
তবে বরগুনা জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শামীম আহসান বলেন, “তারা যে ছবির ভিত্তিতে ওই দুজনকে জামায়াত-শিবির দাবি করেছে, সেটা ঠিক না। জামায়াতের মিটিংয়ে বহিরাগত হিসেবে তারা ঢুকেছিল। তাদের বের করে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়টি আমরা প্রেস ব্রিফিং করে জানিয়েছি।”
এদিকে, হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুজনেরসহ তিনটি বসতঘরে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধরা। হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের বরাতে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী ফারুক বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সকালে পাথরঘাটার নতুন ব্রিজ এলাকায় খাদ্যগুদামের সামনে নাসির ও হাসানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নাসির হাসানকে চড় মারেন। পরে নাসির দলীয় প্রোগ্রাম শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাব্বি ও হাসানসহ দুই-তিনজন তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।”
তার দাবি, “ঘটনায় জড়িত রাব্বি ও হাসান আগে ছাত্রলীগের কর্মী ছিল। এখন নাকি তারা শিবির করে। জামায়াতের একটি প্রোগ্রামে গিয়ে ছবি তুলেছে। তারা ছাত্রলীগ থেকে শিবির হয়ে আবারো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছে।”
হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা বিএনপি। পরে আবু সাইদ চত্বরে সমাবেশও করা হয়েছে।
প্রতক্ষ্যদর্শী আনছার মোল্লা বলেন, “দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎ করে চিৎকার শুনে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হয়ে দেখি নাসিরকে কুপিয়ে দুইজন পালিয়ে গেছে। তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি বলেন, পালিয়ে যাওয়া দুজন রাব্বি ও হাসানকে চিনতে পেরেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, এ ঘটনার জেরে দুপুর তিনটার দিকে ঘুটাবাছা গ্রামে রাব্বি ও হাসানের বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় পাশের একটি ঘরও পুড়ে গেছে।
ওসি মেহেদি হাসান বলেন, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে আসামি করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”