টাঙ্গাইলে বাঁশের খুঁটি ভেঙে পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ৫ গরুর মৃত্যু
স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সতর্কতায় আরও কয়েকটি গরু প্রাণে রক্ষা পেয়েছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় বাঁশের খুঁটি ভেঙে কৃষিজমিতে পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সতর্কতায় আরও কয়েকটি গরু প্রাণে রক্ষা পেয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের কস্তুরীপাড়া-ভেঙ্গুলা গ্রামের চকে এ ঘটনা ঘটে বলে কালিহাতী থানার ওসি জে ও এম তৌফিক আজম জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, কস্তুরীপাড়া-ভেঙ্গুলা গ্রামের চকের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাঠের খুঁটি ও বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া হয়েছে। তেমন একটি কাঠের খুঁটি ভেঙে গেলে সংলগ্ন বাঁশের খুঁটিটি অরক্ষিত তারসহ মাটিতে পড়েছিল।
বুধবার সকালে মাঠে চরতে যাওয়া ভেঙ্গুলা গ্রামের কৃষক লিয়াকত, রমজান ও সলিমের মালিকানাধীন গরুগুলো ওই বিদ্যুতায়িত খুঁটির সংস্পর্শে এলে ঘটনাস্থলেই পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়।
তবে কস্তুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেন্টু ঘটনাটি দেখতে পেয়ে দ্রুত চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করেন। তার ফলে তাৎক্ষণিক আরও কয়েকটি গরুকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। নইলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল।
সেন্টু আক্ষেপ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় বাঁশের খুঁটি ও কাঠের খুঁটি অব্যবস্থাপনায় পড়ে আছে। আমরা বারবার সিমেন্টের খুঁটির কথা বললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
“এখানে কেন সিমেন্টের খুঁটি দেওয়া হয় না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এর আগেও এসব ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটির কারণে মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আজ আবার পাঁচটি গরু মারা গেল।”
স্থানীয় লোকমান হোসেন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকা অবস্থায় থাকলেও খুঁটিগুলো অপসারণ বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকাবাসী ও গবাদিপশু সব সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয সাদেক আলী বলেন, দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি অপসারণ করে সিমেন্টের খুঁটি স্থাপন এবং বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক লিয়াকত, রমজান ও সলিম জানান, নিহত গরুগুলো ছিল তাদের পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় তারা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তারা ক্ষতিপূরণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
কালিহাতী বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি যতটুকু জানি এই বিদ্যুতের লাইনগুলো সেচ পাম্পের। তিন মাসের জন্য সেচ পাম্পের মালিকরা নিয়ে থাকে। সেচ মৌসুম শেষে এই মালিকরা নিজেরাই লাইন খুলে দিয়ে থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “যে ঘটনাটি ঘটেছে আসলেই দুঃখজনক ঘটনা। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুতের লাইনগুলো সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করে দিব।”
ওসি জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, “প্রাথমিকভাবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তবে এখনো কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।”
