নারায়ণগঞ্জে অটোচালক হত্যা: আজমেরী ওসমানের সহযোগী ‘গালপোড়া রঞ্জুর’ প্রাণদণ্ড
বিচারক নাজমুন্নাহার সুমি এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
দীর্ঘ ১৫ বছর পর নারায়ণগঞ্জ শহরে অটোরিকশা চালক হত্যা মামলায় আজমেরী ওসমানের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছে আদালত।
সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুন্নাহার সুমি আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
তিনি বলেন, মামলায় প্রধান অভিযুক্ত নগরীর আল্লামা ইকবাল রোডের কবির হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে গালপোড়া রঞ্জুকে (৪৪) মৃত্যুদণ্ড এবং সিলেটের বিয়ানীবাজারের শরিফ আহম্মেদের ছেলে আকাশ আহম্মেদকে (৩৭) যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে তাদের যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
একই মামলায় অপর দুই আসামি খালাস পেয়েছেন। তারা হলেন- আরাফাত খান ওরফে শান্ত (৩৭) ও মো. খোকন মিয়া (৩৮)।
সাজাপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে ‘গালপোড়া রঞ্জু’ নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি হত্যা, হত্যার পর লাশ গুম, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অভিযুক্ত আজমেরী ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
আজমেরী ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির প্রয়াত সংসদ সদস্য এ কে এম নাসিম ওসমানের ছেলে। তার এক চাচা এ কে এম শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এবং অপর চাচা এ কে এম সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বেশ কয়েকটি হত্যা মামলায় আজমেরী ওসমান ও তার দুই চাচাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত আজমেরী ওসমান এখন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) খন্দকার আজিজুল হক বলেন, “দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আজমেরী ওসমানের অনুসারী ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই পলাতক।”
মামলার বরাতে আইনজীবী জানান, ২০১১ সালের ১৩ জুলাই নিখোঁজ হন চাঁদপুরের মতলবের মো. জামাল (৪০)। পেশায় অটোরিকশা চালক জামাল পরিবার নিয়ে ফতুল্লার পাগলা নয়ামাটি এলাকায় ভাড়াবাসায় থাকতেন। নিখোঁজের পর ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পরে নিহতের পরিবারের সদস্যরা র্যাবের কাছে গেলে ১৭ জুলাই র্যাব অটোরিকশাটি উদ্ধার করে এবং খোকনকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনিরুল ইসলাম রঞ্জু ওরফে ‘গালপোড়া রঞ্জু’, আকাশ আহম্মেদ ও আরাফাত খান শান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১৮ জুলাই শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি বাড়ির পরিত্যক্ত টয়লেটের পাশ থেকে জামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন ছাড়াও অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী সখিনা বেগম। মামলার চার মাসের মাথায় ১৩ অক্টোবর আদালতে উপরের চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
তবে, দীর্ঘ সময় বিচারকাজ চলার পর সোমবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন বলে জানান পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
তিনি বলেন, “এই মামলার চারজন অভিযুক্তই পলাতক। সাজাপ্রাপ্ত দুজনের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।”
