Published : 04 May 2026, 08:02 PM
গাজীপুর মহানগরে পোশাক শ্রমিক স্ত্রীকে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে স্বামীর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার রাত ১২টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বাইমাইল পূর্বপাড়া এলাকা থেকে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান কোনাবাড়ী থানার ওসি মো. ইফতেখার হোসেন।
নিহতের মমতাজ আক্তার (২৩) কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কাজাইকাটা গ্রামের ময়নাল হকের মেয়ে। তিনি জামালপুর জেলার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। মমতাজ স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,পুলিশ জানায়, আনোয়ার হোসেন (২৮) স্ত্রী, চার বছর বয়সী মেয়ে এবং শাশুড়িকে নিয়ে কোনাবাড়ীর বাইমাইল পূর্বপাড়া এলাকায় মো. মোকছেদ মিয়ার ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পারিবারিক কলহের জেরে রাতে আনোয়ার তার স্ত্রীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে লাশ গুম করতে একটি সাদা বস্তায় ভরে মহাসড়কের পাশে যান আনোয়ার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আলমগীরকে সাদা প্লাস্টিকের বস্তা বহন করে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাকে থামিয়ে বস্তার ভেতরে কী আছে জানতে চান। এ সময় আনোয়ার বস্তা ফেলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার দিয়ে তাকে ধাওয়া করেন আটক করতে পারেননি।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি চেকপোস্টে দায়িত্বরত এএসআই মো. আলমগীর হোসেন ও এএসআই আব্বাস ঘটনাস্থলে এসে আনোয়ারকে ধরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে স্থানীয়রা বস্তাটি খুলে ভেতরে এক নারীর লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী থানার এসআই মো. হামিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ওসি ইফতেখার হোসেন বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনার পর নিহতের স্বামী পালিয়ে যান। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।