পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: ৪৭ দিন পর আরেক লাশ উদ্ধার

মাড়েয়া ইউনিয়নে করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাট এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলে শিশু জয়ার মরদেহ পাওয়া যায়।

পঞ্চগড় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Nov 2022, 03:16 PM
Updated : 11 Nov 2022, 03:16 PM

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকাডুবির ৪৭ দিন পর এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এ দুর্ঘটনায় ৭১ জনের মরদেহ মিলল; নিখোঁজ রয়েছেন একজন। 

শুক্রবার বিকালে মাড়েয়া ইউনিয়নে করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাট দুর্ঘটনাস্থল এলাকায় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। 

জয়া রানী রায় (৪) নামের এই শিশু পঞ্চগড় সদরের কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের ঘাটিয়ার পাড়া গ্রামের বীরেন্দ্রনাথ রায় ও আলো রানী রায়ের মেয়ে। 

জয়ার ছোট বোন যুঁথি রানী রায়ের (১) লাশ ঘটনার পরদিনই উদ্ধার করা হয়েছিল। তাদের মা আলো রানী রায় ঘটনার দিন বেঁচে গিয়েছিলেন। 

২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়া উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় করে বোদা উপজেলার বরদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন উৎসবে যোগ দিতে। দুপুরে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় একটি নৌকা উল্টে যায়। 

শুক্রবার উদ্ধার হওয়া জয়া রানী রায়সহ এ পর্যন্ত এ দুর্ঘটনায় ৭১ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একজন। 

মাড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু আনছার মো. রেজাউল করিম শামীম স্থানীয়দের বরাতে জানান, নৌকাডুবির ঘটনাস্থলের পাশেই শ্রমিকরা পাথর উত্তোলন করতে গেলে বিকট গন্ধ পান। এক পর্যায়ে সেখানে একটি গলিত লাশ বের হয়ে আসে। 

খবর পেয়ে বোদা ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জয়া রানীর বাবা বীরেন্দ্রনাথ রায় ও মা আলো রানীও ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। মেয়ের লাশ পেয়ে বাবা-মাসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

পরে বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বহ্নি শিখা আশার উপস্থিতিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

নৌকাডুবির পর থেকে বাচ্চাটির লাশ সম্ভবত বালুতে চাপা পড়ে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে, বলেন ইউপি চেয়ারম্যান শামীম।

একই নৌকায় মা আলো রানী দুই মেয়ে জয়া ও যুঁথিকে নিয়ে বরদেশ্বরী মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। নদীর মাঝখানে নৌকাডুবির পর আলো রানী বেঁচে গেলেও দুই মেয়েকে হারিয়ে ফেলেন। ঘটনার পর দিন ২৬ সেপ্টেম্বর যুঁথির লাশ পাওয়া যায়; কিন্তু জয়া নিখোঁজ থাকে। 

দুই মেয়েকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা বীরেন্দ্রনাথ রায় ও মা আলো রানী। 

কাঁদতে কাঁদতে বীরেন্দ্রনাথ বলেন, “বলার কোনো ভাষা নেই। শান্ত্বনা একটাই, মেয়ের লাশটা পেয়েছি। সৎকার করতে পারব।” 

এর দুদিন আগে [গত বুধবার] দেবীগঞ্জ উপজেলার ছত্র শিকারপুর গ্রামের নিখোঁজ ভুপেন চন্দ্র বর্মণ ওরফে পানিয়ার (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ৭১ জনের লাশ উদ্ধার হলো। এখন বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সুরেন্দ্র নাথ বর্মন (৬৫) নিখোঁজ থাকলেন। 

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপঙ্কর রায় বলেন, নৌকাডুবিতে ৭১ জনের মরদেহ উদ্ধার হলো। নিখোঁজ থাকলেন সুরেন্দ্র নাথ বর্মন। এ জন্য স্থানীয় শ্রমিক ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

Also Read: পঞ্চগড়ে নৌকাডুবি: দেড় মাস পর আরেক মরদেহ উদ্ধার

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক