যশোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কমিটি স্থগিত

প্রক্টর বলেন, “আমি দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একদল শিক্ষার্থী দুজন শিক্ষার্থীর ওপর আক্রমণ করেছে।”

যশোর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Oct 2023, 05:20 PM
Updated : 14 Oct 2023, 05:20 PM

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে এ ঘটনার পর ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি তাদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। 

আহতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আল মামুন সিমন, ছাত্রলীগকর্মী নৃপেন্দ্র নাথ রায়, আশরাফুল আলম, আশরাফুল ইসলাম ও জামিল খান। তাদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার ছাত্রলীগের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে মিছিল ও সমাবেশ হয়। তারপর বেলা পৌনে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক তানভির ফয়সালের অনুসারীদের সঙ্গে সহসভাপতি আল মামুন সিমনের অনুসারীদের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

আহত আল মামুন সিমন সাংবাদিকদের বলেন, “মৌলবাদবিরোধী একটি মিছিল করার পরে আমরা হলের দিকে যাচ্ছিলাম। হঠাৎই সভাপতি সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক তানভির ফয়সালের অনুসারী মনিরুল ইসলাম হৃদয়, রাইসুল হক রানা, মোহাম্মদ রাফি, রাকিব, লিমন, শাহিনুর, সোহেল রানা, রকি, লাবিব শোয়েব, রাব্বি, মেহেদীসহ প্রায় ৪০ জন হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার উপর হামলা করে।”

সিমনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত আহত আশরাফুল আলম বলেন, “ক্লাস শেষে মাঠে খেলা দেখছিলাম। কিছু ছেলে হাতে লাঠি চাপাতি রড বাঁশ নিয়ে সিমন ভাইকে মারছিল। আমি মোবাইল বের করে ভিডিও করতে গেলে তারা আমাকে মারধর করে।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানা। তিনি উল্টো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছেন। 

সোহেল রানা বলেন, “মিছিল শেষ করে কেউ কেউ চলে গেছে। পরে সিমনসহ অপরিচিত তিনজন মিলে আমাদের ছাত্রলীগের কর্মী নৃপেনকে আটকে মারপিট করেছে। তার মাথা ফেটে গেছে। তারপর তার বন্ধুরা পাল্টা ধাওয়া দিলে তারা চলে যায়। কোনো মারধর করা হয়নি।”

আহত নৃপেন্দ্র নাথ রায় বলেন, “আমি বাইরে খেতে যাচ্ছিলাম। তখন শান্ত ও সিমনরা দুটি গাড়িতে এসে আমাকে চড়-থাপ্পড় মারে। আমি প্রতিরোধ করতে গেলে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। তারপর আমি হলের মধ্যে দৌড়ে গিয়ে বড় ভাইদের ডাকি এবং মেডিকেলে যাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হাসান মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, “আমি দুটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। একদল শিক্ষার্থী দুজন শিক্ষার্থীর ওপর আক্রমণ করেছে। আহত শিক্ষার্থীদের পুলিশি নিরাপত্তায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্যের কাছে তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হবে বলে জানান প্রক্টর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি পক্ষ মারামারি করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেবে এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এর আগেও তারা শিক্ষকদের গাড়ি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত করেছে। মারামারির অভিযোগের তদন্তের ভিত্তিতে যারা দোষী তাদের অবশ্যই বিচার করব।”

কমিটি স্থগিত

এদিকে মারামারির পর ‘সংগঠনবিরোধী, শৃঙ্খলা-পরিপন্থি ও সংগঠনের মর্যাদা ক্ষুণ্নু হয় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে’ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি স্থগিত করেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

শনিবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, একই সঙ্গে কেন পরবর্তীতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার যথোপযুক্ত লিখিত জবাব আগামী সাত দিনের মধ্যে দপ্তর সেলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।