Published : 17 Feb 2026, 04:23 PM
আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের বাজারে ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস, লেবু ও শশাসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। যদিও বাজার নিয়ন্ত্রণে মোবাইল টিমের মাধ্যমে মনিটরিং জোরদারের কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যাবধানে লেবুর দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে; প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকায়; গরুর মাংস কেজিতে বেড়েছে ৮০ টাকা।
দুপুরে নগরের সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার মেছুয়া বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি কোথাও ১৮০ টাকা এবং কোথাও ১৮৫ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। দোকানিরা সাংবাদিকদের ক্যামেরা হাতে ঢুকতে দেখে দেখে তড়িঘড়ি করে ১৮৫ টাকার মুরগির দাম কমিয়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে শুরু করেন।
এ সময় দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রফিকুল ইসলাম নামের একজন ক্রেতা বলেন, “গত ৪-৫ দিন আগেও ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০ টাকা ছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কোথাও বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে এসব করছেন।”

সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে এ সময় মুরগি ব্যবসায়ী রুস্তম আলী বোর্ডে লেখা চার্ট সংশোধন করে ব্রয়লার প্রতি কেজি মুরগি ১৮৫ টাকার জায়গায় ১৮০ টাকা লেখেন।
দাম কেন বেশি রাখা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে এ দোকানি বলেন, “মানুষের কাছে দাম একটু বেশি না চাইলে চলে না। তারা কোনো না কোনোভাবে আমাদের ৫-৭ টাকা কম দেন।”
আরেক ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, “শুধু ব্রয়লার মুরগি নয়, দাম বেড়েছে সোনালি এবং দেশি মুরগিতেও। ৫০০ টাকার কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়, ২৭০ টাকার সোনালি মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি।
“আমাদের কিছু করার নেই। শীতে অনেক মুরগি মারা গেছে। তাই দাম একটু বেড়েছে।”
কয়দিন আগে গরুর মাংস ৭৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও মঙ্গলবার বাজারে কেজিতে দাম ৭০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে গরু কম উঠছে, তাই দাম একটু বেশি রাখা হচ্ছে।
ক্রেতা আফরোজা সুলতানা বলেন, “রমজান মাস আসলেই অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। ৮০০ টাকা কেজির কমে কোনো দোকানেই গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাধ্য হয়ে আমরা দাম বেশি দিয়েই গরুর মাংস কিনছি।”
রেকর্ড পরিমাণ দাম বেড়েছে লেবু ও শশার। রমাজানে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লেবু এবং শশার দাম বেশি হওয়ায় ক্ষোভ ঝরাচ্ছেন ক্রেতারা।
ক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, “প্রতি হালি লেবুর দাম চাচ্ছে সর্বনিম্ন ৪০ টাকা থেকে ১২০ টাকা। ৪০ টাকা হালি লেবুর মান খুবই খারাপ।
“রমজান আসলেই নানা অজুহাতে এসবের দাম বাড়ানো হয়। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। শশাও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে কেজিতে। বাজার মনিটর জোরদার না করা হলে চলা অসম্ভব হয়ে পড়বে আমাদের মত মানুষের।”

তবে ব্যবসায়ী হান্নান মিয়া বলছেন, “রমজান উপলক্ষে লেবুর দাম বাড়েনি। প্রায় মাসখানেক ধরেই চড়া দাম। কারণ আমদানি কম।”
নতুন বাজারের ব্যবসায়ী এমদাদুল হক বলেন, “গত রমজানের তুলনায় এবার সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বেগুন ৮০টাকা কেজি, কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০টাকা, গতবছর এগুলোর দাম আরও বেশি ছিল। তবে শশা এবং লেবুর দাম বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে আমদানি কম তাই।”
সানকিপাড়া রেলক্রসিং বাজারের ব্যবসায়ি আবুল হাসেম বলেন, “রমজানের অন্যতম পণ্য হচ্ছে ছোলা বুট। এবার এই পণ্যের দাম বাড়েনি। তবে পেঁয়াজ কেজিতে ১০টাকা বেড়ে খুচরা ৬০-৬৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।”
একই বাজারের ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, “এবার রমজানে ভোগান্তির অন্যতম কারণ হচ্ছে মাছ, মাংস এবং কলার অতিরিক্ত দাম। ৮০০-১০০০ টাকার কমে কোনো প্রকার দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। কলার হালি ৬০ টাকা। মানুষ কি খেয়ে পবিত্র রমজান পালন করবে বুঝতে পারছি না।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো.সাইফুর রহমান বলেন, “রমজান কেন্দ্র করে যেনো ব্যবসায়ীরা কোন দ্রব্যের অতিরিক্ত দাম নিতে না পারেন সেই লক্ষ্যে মোবাইল টিম কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। নগরের বড় বড় বাজার ছাড়াও প্রত্যেক উপজেলায় মোবাইল টিম কাজ শুরু করেছে।”
খাদ্যে ভেজাল ও অতিরিক্ত মুনাফার মাধ্যমে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।