Published : 12 Apr 2026, 06:48 PM
সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্থানীয়ভাবে গঠিত ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’- এর নেতারা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়ার হাতে স্মারকলিপিটি তুলে দেন।
এর আগে দুপুরে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংগঠনটি। সমাবেশে হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায়, জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বাহলুল, কুদরত পাশা, আবু সাঈদ ও খলিলুর রহমান বক্তব্য দেন।
চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, “বাঁধ নির্মাণের আগে (প্রি-ওয়ার্ক) ও পরে (পোস্ট-ওয়ার্ক) কাজেও অনিয়ম হচ্ছে।
“অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। আবার যেখানে কাজের প্রয়োজন নেই, সেখানেও বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।”

এসব বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তরা।
বিক্ষোভে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধি ও স্থানীয় কৃষকেরা অংশ নেন। কৃষকেরা ফসলের বিমা চালুর দাবিও তোলেন তারা।
জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে সাত দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলো হল- বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নীতিমালা অনুসরণ নিশ্চিত করা, প্রকল্পে প্রকৃত কৃষকদের সম্পৃক্ত করা এবং প্রি ও পোস্ট-ওয়ার্কে অনিয়ম বন্ধ করা।
এ ছাড়া নদী, খাল ও জলাশয় খননের দাবিও রয়েছে দাবিতে।
সুনামগঞ্জন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মানমুন হালাদার বলেন, “এ বছর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে।
“কাজ শেষ করার সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও ওই সময়ে অনেক কাজ শেষ হয়নি।”
চলতি বছর ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিকটন। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই হাওরে ধান কাটা শুরু হবে।”