Published : 24 Mar 2026, 06:58 PM
প্রশাসনের কোনো স্তরে দুর্নীতি হলে তার দায় সরকার নেবে না বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সব কথা বলেন তিনি।
অ্যানি বলেন, “কোনোভাবেই যেন দুর্নীতি না হয়। তা জেলা পরিষদ, লক্ষ্মীপুর পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, সড়ক বিভাগ কিংবা এলজিইডি-যেখানেই হোক, সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ দায়িত্ব নিতে হবে। এ বিষয়ে কোনো দায়-দায়িত্ব আমরা নেব না। বিষয়টি সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল।”
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সবসময় সতর্ক রয়েছেন। কেউ যদি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হন, তিনি শুধু কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা নন, রাজনৈতিক ব্যক্তি হলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিগত সরকারের লুটপাট ও টাকা পাচারের কারণে দেশের ৭ থেকে ৮টি ব্যাংক অচল অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির এ আহ্বায়ক।
তিনি বলেন, “লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের ১৫ কোটি টাকা ইউনিয়ন ব্যাংকে আটকে আছে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, যা আছে সে সম্পদটাও জব্ধ। শেষ পর্যন্ত তাও পাওয়া যাবে কি-না, তা কঠিন ব্যাপার।
“শুধু একটা ব্যাংকেই আজকে এ অবস্থা নয়। বাংলাদেশে ৭-৮ টি ব্যাংক আজকে অচল অবস্থায় রয়েছে শুধু লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে। একটা কঠিন সময়ে আমাদের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এই কঠিন সময় পার করাও কঠিন। এর জন্য দরকার সবার আন্তরিকতা ও সহযোগীতা।”
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, “সারাদেশে অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের প্রকৃত সুফল গ্রামীণ মানুষ বা সাধারণ জনগণ তেমনভাবে পায়নি। কিছু ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে এগুলোর প্রয়োজন থাকলেও অনেক প্রকল্প এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যা গত ১৭ বছরেও না করলেও চলত।
“অবশ্য কিছু প্রকল্প জরুরি ছিল এবং সেগুলো বাস্তবায়নও হয়েছে। কিন্তু এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ১০ হাজার কোটি টাকায় সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব মেগা প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে।”
জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা জামায়াতের আমীর এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানসহ অন্যরা ব্ত্তব্য রাখেন।