Published : 05 Jun 2026, 12:42 PM
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে একসঙ্গে চলার কথা ছয় ম্যাচ। কিন্তু চলছে পাঁচটি। বিসিবির ওয়েবসাইট বলছে, আরেক ম্যাচটি শুরুর আগেই শেষ! ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে মাঠে না নেমেই জিতে গেছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব।
ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ঠিকমতো না দেওয়া নিয়ে প্রতিবারই আলোচনা-সমালোচনায় থাকে ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এমনিতে লিগ শেষেই সেই তোলপাড় চোখে পড়ে বেশি। এবার লিগ চলার সময়ই ভূমিকম্প। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পারিশ্রমিক না পেয়ে ম্যাচ বয়কট করেছে দলটির ক্রিকেটাররা।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে শুক্রবার অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামেননি জাহিদুজামান খান সাগর, সোহাগ গাজীরা। প্রতিপক্ষ ওয়াকওয়ার দেওয়ায় না খেলেই পয়েন্ট পেয়ে গেছে অগ্রণী ব্যাংক।
ব্রাদার্সের সঙ্কটের জায়গা নয় এখানেই। লিগের বাই-লজ অনুযায়ী, কোনো দল ওয়াকওভার দিলে তাদেরকে 'রেলিগেটেড' করে দেওয়া হবে। যেটির মানে, প্রিমিয়ার লিগ থেকে ব্রাদার্সের অবনমন নিশ্চিত। ৯ ম্যাচের স্রেফ একটি জেতায় এমনিতেও তারা অবনমনের মুখেই ছিল।
অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে শুক্রবার সকালে নির্ধারিত সময়ে মাঠে যান ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। দলটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, টসের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি মোতাবেক পারিশ্রমিক পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ওই টাকা না পাওয়ায় মাঠে নামেননি তারা। এমন কী ম্যাচ শুরুর আগে গা গরমও করেননি দলটির ক্রিকেটাররা।
সূচি অনুযায়ী সকাল ৯ টায় ম্যাচ শুরুর কথা ছিল। সকাল ৮.২৫ মিনিটে টস করতে যান ম্যাচ রেফারি এনায়েত এইচ চৌধুরি তামিম। টসে অগ্রণী ব্যাংকের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস নির্ধারিত সময়ে এলেও আসেননি ব্রাদার্স অধিনায়ক জাহিদুজ্জামান খান সাগর। ব্রাদার্স অধিনায়কের জন্য প্রায় আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করেন ম্যাচ রেফারি। পরে নিয়মানুযায়ী তিনি অগ্রণী ব্যাংককে ওয়াকওভার দিয়ে দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ক্রিকেটার জানান, আগেও একাধিকবার পারিশ্রমিক দেওয়ার কথা দিয়ে তা রাখেনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ।
“প্রথম কথা হলো, ২০ শতাংশ দেওয়ার কথা সাইনিংয়ের আগে, দলবদলের আগে। সেটা আমরা সাইনিং, দলবদল হওয়ার পর পেয়েছি। দলবদল হওয়ার পরে ২০ শতাংশের জায়গায় কেউ ১৭ শতাংশ, কেউ ১৩ শতাংশ পেয়েছে।”
“ঈদের আগে দেওয়ার কথা বলছে, ঈদের ছুটির আগে খেলাটা খেলে ওইদিন আমরা বাসায় যাব। আমাদের টিকিট কাটা সব শেষ। ওই খেলার মধ্যে টিকিট বাতিল করে আমাদেরকে নিয়ে যায়। ওখানে আমাদের কারও খামে ১০ হাজার, কারও খামে ১৫ হাজার ছিল। এই ১০-১৫ হাজার তো গাড়ি ভাড়াই লাগে ঢাকার বাইরে গেলে। ওই টাকা আমরা সবাই ফেরত দিয়েছি।”
“তারপর তারা অনুরোধ করে খেলা চালিয়ে যাওয়ার এবং জানায় যে, ২ তারিখে খেলার পরে টাকাটা দিয়ে দেবে। আমরা ২ তারিখে ম্যাচটা খেললাম। কিন্তু আমাদের পেমেন্ট আবার আটকে দিল। ৩ তারিখ গেল, ৪ তারিখ গেল। ৪ তারিখে এমন একটা অ্যামাউন্ট দিল, আগের ওই টাকা থেকেও কম।”
টাকা না পাওয়া ক্রিকেটারদের চাওয়া ছিল চুক্তিপত্র। সেটাও ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব থেকে দেওয়া হয়নি বলে জানান ক্রিকেটাররা।
“আপনি টাকা না দেন, আমাদের অ্যাগ্রিমেন্ট পেপারটা দেন। অ্যাগ্রিমেন্ট পেপারটা যেহেতু দেয়নি, টাকাও দেয়নি, তাহলে আমরা কোন ভরসায় আমরা খেলতে নামব?”
এই ব্যাপারে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা আমিন খানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ফোন ও হোয়াটস অ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। পরে হোয়াটস অ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তাতেও জবাব দেননি।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের খেলা বর্জন করার পেছনে পারিশ্রমিক সমস্যার কথা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানতে পারেনি বলে দাবি করছেন লিগের আয়োজক ক্রিকেট কমিটি ফর ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। ঢাকা লিগের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ সেলিম শুধু বললেন, “ব্রাদার্স খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কেন জানিয়েছে, তা এখনও জানা নেই আমার।”
ব্রাদার্স ইউনিয়নের পারিশ্রমিক নিয়ে ঘাপণার ব্যাপারটি প্রতি মৌসুমের নিয়মিত ঘটনা। প্রতি মৌসুম শেষেই পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিসিবি ও সিসিডিএমে চিঠি দেন ব্রাদার্সের হয়ে খেলা ক্রিকেটাররা। সংবাদমাধ্যমের সামনে এসেও নানা সময়ে পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ক্রিকেটাররা।