Published : 25 Jul 2026, 06:33 PM
উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক যেন থামার নয়। এবার তার বলে আউট হওয়ার পর, এই পাকিস্তানি স্পিনারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান টিম ডেভিড।
আধুনিক রহস্য স্পিনারদের মতোই ক্যারম বলসহ নানা বৈচিত্র তারিকের আছে। তবে নিজেকে তিনি আলাদা করেছেন বোলিং অ্যাকশন দিয়ে। রান-আপে এগিয়ে গিয়ে ডেলিভারি স্ট্রাইডে অস্বাভাবিকভাবে থেমে যান তিনি, সেটি অনেক সময় ২-৩ সেকেন্ডও হয়ে যায়।
এরপর বল ডেলিভারি করেন অনেকটাই লো-আর্ম বা সাইড-আর্ম কিংবা স্লিঙ্গিং অ্যাকশনে। তার বোলিংয়ের সবচেয়ে আলোচিত দিক মূলত এটিই। এছাড়া প্রথাগত স্পিনারদের মতো ফ্লাইট আর গতির বৈচিত্র ও ক্রিজের ব্যবহার তো আছেই।
ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্ট দা হান্ড্রেডে শুক্রবার তারিকের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান ডেভিড। সঙ্গে সঙ্গে ‘নো বল’ দেওয়ার জন্য আম্পায়ারকে ইশারা করেন তিনি। আম্পায়ার অবশ্য তার দাবিতে সাড়া দেননি। প্রথমে রিভিউ নেওয়ার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত আর নেননি ডেভিড।
বার্মিংহাম ফিনিক্সের বিপক্ষে ৩ বলে ২ রান করে মাঠ ছাড়েন ট্রেন্ট রকেটসের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ডেভিড। ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১০ রানে হেরে যায় ট্রেন্ট রকেটস।
তারিকের অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক নতুন কিছু নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সময় তার অ্যাকশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান ক্যামেরন গ্রিন। দ্বিতীয় ম্যাচে আউট হওয়ার পর, বেসবল খেলোয়াড়দের মতো বল ছোড়ার ভঙ্গি করে তারিকের বোলিং অ্যাকশনের দিকে ইঙ্গিত করেন গ্রিন।
গ্রিনের সেই ভঙ্গি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁচা মারেন তারিক। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি ছোট বাচ্চার কান্নার ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “আউট হওয়ার পর…”
২০২৪ সালের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) ম্যাচ রেফারির কাছে তারিকের সন্দেহজনক অ্যাকশন নিয়ে রিপোর্ট করেন আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব ও রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ। এরপর ২০২৫ সালের পিএসএলেও অন-ফিল্ড আম্পায়াররা পুনরায় তার অ্যাকশন নিয়ে অভিযোগ জানান। কিন্তু দুইবারই পরীক্ষায় তার অ্যাকশন বৈধ প্রমাণিত হয়।
গত বছর ‘এমওয়াইকে স্পোর্টস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারিক বলেছিলেন, তার ব্যতিক্রমী এই বোলিং অ্যাকশন মূলত শারীরিক গঠনের কারণে।
“আমার শরীরের গঠন একটু ব্যতিক্রম, তাই আমার বোলিং অ্যাকশনটাও আলাদা। আমার শরীরের গঠন অন্য সব সাধারণ মানুষের মতো নয়… হাত স্বাভাবিকভাবেই বাঁকা হয়ে থাকে। পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হয়েছি। সবাই মনে করে, আমি ইচ্ছা করে হাত বাঁকাই। কিন্তু বাঁকা ভাবটা আসলে জন্মগত শারীরিক গঠনের ফল।”