Published : 27 Dec 2025, 11:16 PM
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স থেকে এবার ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গেছে।
তিন মাস ২৭ দিনে দানসিন্ধুক থেকে পাওয়া ৩৫ বস্তা টাকা দিনভর গণনা শেষে শনিবার রাত ৮টায় এ হিসাব দেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।
সবশেষ ৩০ অগাস্ট গণনায় এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ ১২ কোটি নয় লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা পাওয়া গিয়েছিল বলে জানায় মসজিদ কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা বলেন, প্রাপ্ত সমুদয় টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব দান সিন্ধুকে টাকা ছাড়াও বরাবরের মত স্বর্ণ, রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে; যা সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং পরে বাজার মূল্য নির্ণয় করা হবে।
তিনি বলেন, দানের অর্থ মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহ করা হয়। এ ছাড়া দানের টাকা জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানায় সহায়তার পাশাপাশি গরিব ছাত্র ও দুস্থদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এদিন সকাল সোয়া ৭টায় জেলা প্রশাসক ছাড়াও পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেনসহ অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তা ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ৩৫টি বস্তায় ভরে এসব টাকা নেওয়া হয় মসজিদের দোতলায়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় বস্তা থেকে টাকাগুলো মেঝেতে ঢেলে মাদ্রাসার অন্তত ২৫০ ছাত্র, ১০ শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের ৭০ কর্মকর্তা টাকাগুলো গণনা করেন।
সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা। জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত তিনতলা মসজিদটি প্রায় চার একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।
কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী বারোজন জমিদারের অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা নামের এক ব্যক্তি নরসুন্দার তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে সেখানে নির্মিত মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।