Published : 27 Dec 2025, 03:07 PM
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স তিন মাস ২৭ দিন পর খুলে মিলল ৩৫ বস্তা টাকা। এখন চলছে গণনা।
শনিবার সকাল সোয়া ৭টায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং জেলা পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়।
এ সময় পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ অগাস্ট এ মসজিদের দান বাক্সে পাওয়া গিয়েছিল ৩২ বস্তা টাকা। দিন শেষে গণনা করে যার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ১২ কোটি নয় লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। এ ছাড়া পাওয়া যায় বিপুল স্বর্ণ, রূপার অলংকার ও বৈদেশিক মুদ্রা।
জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা বলেন, দানবাক্সে ৩৫ বস্তা টাকা ছাড়াও বরাবরের মতো স্বর্ণ ও রুপাসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। পরে ৩৫টি বস্তায় ভরে এসব টাকা নেওয়া হয় মসজিদের দোতলায়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় বস্তা থেকে টাকাগুলো মেঝেতে ঢেলে মাদ্রাসার অন্তত ২৫০ ছাত্র, ১০ শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের ৭০ কর্মকর্তা টাকাগুলো গণনা করছেন।
দিনভর গণনা শেষে এদিন সন্ধ্যায় টাকার পরিমাণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, মসজিদের দানের অর্থ মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহ ছাড়াও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়ে থাকে।
সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা। জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত তিনতলা মসজিদটি প্রায় চার একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।
কথিত আছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী বারোজন জমিদারের অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা নামের এক ব্যক্তি নরসুন্দার তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে সেখানে নির্মিত মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।