Published : 09 Apr 2026, 11:16 PM
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণের আয়োজনে রঙিন হয়ে উঠেছে পার্বত্য জেলা রাঙামাটি। জেলার পাড়া-মহল্লায় চলছে উৎসবের আমেজ।
এ উৎসবের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
বৃহস্পতিবার সকালে বিঝু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, সাংলান, চাংক্রান, পাতা- ২০২৬ উদযাপন কমিটির আয়োজনে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরিবেশিত হয় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, পাংখোয়াসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের নিয়ে নৃত্য।

পরে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার।
তিনি বলেন, “বিজু আমাদের প্রধান ও সামাজিক উৎসব। এই উৎসব আমরা সবাই মিলেমিশে পালন করব। আমাদের যে সব ইতিহাস-ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো আমাদের ধরে রাখতে হবে। এই উৎসবের মধ্যে আমরা সবাই যেন একত্রে শান্তিতে বসবাস করতে পারি এই কামনা করব।”

জেএসএস নেতা ঊষাতন তালুকদার বলেন, “বিগত বিএনপি সরকারের আমলে জনসংহতি সমিতি সঙ্গে ১৩ বার সংলাপ হয়েও নানা কারণে বিএনপি সঙ্গে চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। আমরা তারেক রহমানের কাছে আশা রাখব, অতীতে যা হয়েছে সব কিছু ভুলে গিয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে অবহেলা উপেক্ষিত না রেখে আমাদেরকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে নেবেন। আমরাও বাংলাদেশের মানুষ।”
তিনি বলেন, “পার্বত্য সমস্যা জাতীয় সমস্যা। সরকার সদিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসলে এটা অবশ্যই সমাধান হবে। বিজুকে সাবলীলভাবে নিরাপদে উদযাপন করতে গেলে রাজনীতি ছাড়া উপায় নেই। সরকার যদি উপযুক্ত ও গণতান্ত্রিক সরকার না হয় তাহলে এই উৎসব ঠিকভাবে করা যাবে না এবং আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না; বিলুপ্ত হয়ে যেতে হবে।”
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী নিজ নিজ প্রথা-সংস্কৃতি মেনে নববর্ষ উদ্যাপন করেন। এর মধ্যে চাকমাদের উৎসব হচ্ছে বিঝু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু, অহমিয়াদের বিহু, খুমীদের সাংক্রাই, ম্রোদের চাংক্রান, খিয়াংদের সাংলান, সাঁওতালদের পাতা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা। ১২-১৪ এপ্রিল শুরু হবে বিজুর মূল আনুষ্ঠানিকতা।
আলোচনা সভা শেষে পাহাড়ের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়।