Published : 22 Jun 2026, 10:17 PM
সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় মাদক বিক্রির অভিযোগে ‘মব’ সৃষ্টি করে বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার বিকালে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক মো. এমদাদ স্বপ্রণোদিত হয়ে ভিডিও দেখে ‘মব’ সৃষ্টিকারী জনতাকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা নেওয়ার জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।
বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি মো. শাহিন মিয়া বলেন, “আদালতের নির্দেশনা পেয়েছি। আমরা এরই মধ্যে মামলা নিয়েছি। দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে।”
পুলিশ জানায়, রোববার উপজেলার পাখিজান গ্রামে মাদক বিক্রির অভিযোগে আবু সাইদ নামের এক যুবকের ঘরে হামলা-ভাঙচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। ঘটনাটি জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও লাইভের মাধ্যমে প্রচার করে।
বিষয়টি আদালতের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় ৩০৮৮ নম্বর স্মারকের মাধ্যমে বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
‘অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনা দায়িত্ব পুলিশের’
আদালত থেকে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, রোববার বিভিন্ন অনলাইনসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলার পাখিজান গ্রামের আবু সাইদের বাড়িকে ‘মাদক বিক্রেতার বাড়ি’ প্রচার চালিয়ে উম্মত্ত জনতা ‘মব’ সৃষ্টি করে। পরে ওই বাড়িতে আগুন দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মারধরও করে উল্লাস করে জনতা।
বিচারক বলেন, স্থানীয় জনতা বিচারের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে; যা আইনের পরিপন্থি এবং সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বাংলাদেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক নাগরিকের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তাকে বিচারের আওতায় আনা পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব।
এতে বলা হয়, এ ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করে নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া গুরুতর অপরাধ; যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং জনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের ঘটনায় সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
এ কারণে ভিডিও দেখে ‘মব’ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পুলিশকে এজাহারকারী হয়ে প্রচলিত আইনের আওতায় মামলা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয় আদালত।