Published : 09 Mar 2026, 10:48 PM
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িছে। হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার দুপুরে উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান বাকেরগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম সোহেল রানা।
ভুক্তভোগী হুমায়ন কবির নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তার দাবি, বিএনপি নেতারা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন; যার কোনো প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, সম্প্রতি নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদে ভিজিডি চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সকালে নিয়ামতি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার তার নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউপি কার্যালয়ে সমবেত হন।
তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ ইউনিয়ন পরিষদে একটি তদন্ত দল পাঠান। তদন্তে বাকেরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ চাল আত্মসাতের কোনো প্রমাণ পায়নি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবিরের ওপর হামলা চালায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে দেখা যায়, একদল লোক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন ও তার লোকজনকে মারতে মারতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে বাহিরে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় পাশে সোহেল সিকদারকে দেখা গেছে। হামলার এক পর্যায়ে হুমায়ন দৌড়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন।
হুমায়ন কবির বলেন, “বিএনপি নেতারা মিথ্যা চাল আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে। ট্যাগ অফিসারসহ তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তদন্ত করে কোন প্রমাণ পায়নি। তারপরও হামলা করেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের প্রাথমিক কোনো প্রমাণ পাননি তারা। তাদের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার বিস্তারিত ইউএনওকে জানিয়েছেন তিনি।
বিএনপি নেতা সোহেল সিকদার বলেন, “চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের খবর পেয়ে তদন্ত করতে পরিষদে এসেছি। তবে হঠাৎ করে এ রকম হামলার ঘটনা ঘটবে বুঝতে পারিনি।”
ঘটনাটি শোনার কথা জানিয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান মিজান মিয়া বলেন, দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি সোহেল রানা বলেন, “নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদে একটু ঝামেলা হয়েছিল। খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। ভুক্তভোগী থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইউএনও রুমানা আফরোজ বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলার একটি ভিডিও দেখেছি। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
হামলার ঘটনায় ইসলামী আন্দোলনের নিন্দা ও ক্ষোভ
ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। দলটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। সেইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।