Published : 18 Sep 2025, 08:51 PM
টানা ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে উপজেলা সদর বাজারসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে পানি বাড়তে শুরু করে। এক পর্যায়ে মহারশি নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে ও উপজেলা সদর বাজারে পানি ঢুকে পড়ে।
এদিকে সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে ধানশাইল ইউনিয়নের কাড়াগাঁও-ধানশাইল সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আখিনুজ্জামান বলেন, মহারশি নদীর ব্রিজপাড় এলাকায় পানির তোড়ে আশির দশকে নির্মিত একটি সড়ক ধসে গেছে; যেটি বাঁধ হিসেবে কাজ করত।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, উপজেলা পরিষদ এবং বাজারের পানি নামতে শুরু করেছে। মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি কূল উপচে প্রবাহিত হচ্ছে।
মহারশি নদীর পানির তোড়ে ডাকাবর ও দুপুরিয়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে; এতে ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইউএনও বলেন, আকস্মিক বন্যার পানিতে এখনও তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আরও বৃষ্টি কিংবা ঢলের পানি বেশি দিন স্থায়ী হলে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পানি নিম্নাঞ্চলের দিকে দ্রুত নেমে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, আকস্মিক এ বন্যায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পানির প্রবল তোড়ে মাহরশি নদীর তীরবর্তী পাঁচ থেকে ছয়টি বাড়ি ভেসে গেছে।
এদিকে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও শেরপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, আকস্মিক বন্যায় উপজেলার ১১৩ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত পানির তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ৫০ হেক্টর পুরোপুরি ও ৬৩ হেক্টর আংশিক তলিয়েছে।
তবে পানি দ্রুত সময়ের মধ্যে নেমে গেলে আমনের তেমন ক্ষতি হবে না বলে মনে করেন ফরহাদ হোসেন।
বন্যা মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।