ভোলার ইলিশার কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন
বাপেক্সের ধারণা অনুযায়ী, দৈনিক এই কূপে ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।
ভোলার ইলিশার একটি কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্স।
কূপ খনন কাজ শুরুর দেড় মাসের বেশি সময়ের মাথায় শুক্রবার সকাল ৭টায় অগ্নি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় বলে জানান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ভূ-তাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন।
তিনি বলেন, “এখন পরীক্ষামূলক কাজ চলছে, মাটির ৩ হাজার ৪৩৩ মিটার গভীরতায় এ গ্যাসের সন্ধান মেলে। এটি প্রায় ৪ কিলোমিটার বিস্তৃত।”
বিশ্ব বাজারে জ্বালানির চড়া দাম ও সংকটের মধ্যে এ নিয়ে দ্বীপজেলা ভোলায় শাহবাজপুর ও নর্থ জোনে মোট নয়টি কূপে গ্যাস মজুতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেল। এতে মজুতের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
বাপেক্সের নকশা ও লোকেশন অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী সমাদৃত রাশিয়ার তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি গ্যাসপ্রম গত ৮ মার্চ ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে মালেরহাট সংলগ্ন এলাকায় ‘ইলিশা-১’ নামের কূপ খনন শুরু করে। মাটির ৩ হাজার ৪৭৫ মিটার গভীরতায় তিনটি স্তরে ডিএসটি (ড্রিল স্টেম স্টেট) এর মাধ্যমে কূপ খনন কাজ শেষ হয় ২৪ এপ্রিল।
বাপেক্স জানিয়েছে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হবে।
বাপেক্সের ধারণা অনুযায়ী, দৈনিক এই কূপে ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। এতে ১৮০ থেকে ২০০ বিসিএফ ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে আরও সময় লাগবে।
১৯৯৩-৯৪ সালে ভোলার বোরহানউদ্দিনের শাহবাজপুর ক্ষেত্রে প্রথম গ্যাস আবিষ্কৃত হয়। পরে সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মোট আটটি কূপ খনন করা হয়।
