Published : 29 Jun 2023, 11:59 PM
গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের ৬ হাজার ১৫৮ বন্দির জন্য ৩২টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদ উপলক্ষ্যে বন্দিরা পেয়েছেন বিশেষ খাবার। এ ছাড়া দরিদ্র বন্দিদের মধ্যে নতুন জামাকাপড় বিতরণ করা হয়েছে।
এখানে নারীদের একটি ছাড়া বাকি তিনটি কারাগারে ঈদের জামাত হয়েছে। নতুন পোশাক পরে ঈদের নামাজ, বিশেষ খাবার ও আনন্দ-বিনোদনের মধ্য দিয়ে ঈদ উদ্যাপন করেছেন বন্দিরা।
কারাকর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও বন্দিদের বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। কারাগারে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় দরিদ্র বন্দিদের চিহ্নিত করে নতুন পোশাক সরবরাহ করা হয়েছে। ঈদের দিন অনেকে স্বজনরা কারাগারে আসেন। ঈদে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও স্বজনরা তাদের রান্না করা খাবার দিয়ে গেছেন; যার কারণে ঈদের দিনও সাক্ষাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বন্দিদের অংশগ্রহণে বিনোদনেরও আয়োজন করা হয়।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ সুপার সুব্রত কুমার বালা জানান, ঈদের দিনে সব কারাগারে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সকালে ছিল মুড়ি-পায়েস। দুপুরে দেওয়া হয়েছে গরু ও খাসির মাংস, পোলাও, সালাদ, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও পান-সুপারি। রাতে দেওয়া হবে ভাত, সঙ্গে রুই মাছ ও মুড়িঘণ্ট।
তিনি আরও জানান, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদের নামাজের ২১টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কারাগারে ২ হাজার ৩৮৩ জন বন্দি আছেন। তাদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত অনেক বন্দি রয়েছেন এই কারাগারে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর জ্যেষ্ঠ সুপার শাহজাহান আহমেদ বলেন, হাইসিকিউরিটিতে কোনো সাংস্কৃতিক আয়োজন না থাকলেও এই কারাগারে বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। এতে বন্দিরাই বিভিন্ন বিষয়ে অংশগ্রহণ করেন। তার কারাগারে সকাল ৯টা থেকে পৃথক পৃথক তিনটি জামাতের ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ কারাগারে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১ হাজার ১৫৪ বন্দি আছেন। ঈদ উপলক্ষ্যে শতাধিক দরিদ্র বন্দির মধ্যে লুঙ্গি বিতরণ করা হয়েছে। খাবার-দাবারে অন্যদের মতো একই আয়োজন ছিল।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২-এর সুপার আমিরুল ইসলাম জানান, বন্দিদের জন্য ঈদের নামাজের ৮টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কারাগারে বন্দির সংখ্যা ২ হাজার ৮১। তাদের মধ্যে শতাধিক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি চার শতাধিক। এ কারাগারেও শতাধিক দরিদ্র বন্দিকে লুঙ্গি দেওয়া হয়েছে। বিকালে থাকছে বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক আয়োজন।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, জামাত অনুষ্ঠিত না হলেও নিজেরা নিজেদের মতো করে নামাজ আদায় করেছেন। কারাগারে (ডে-কেয়ার সেন্টারে) মা-বন্দিদের সঙ্গে আসা শিশুরাও রয়েছে। বন্দিদের অংশগ্রহণে ঈদ আনন্দ ও বিভিন্ন বিনোদনের আয়োজন করা হয়। এখানে ৫৪০ জন বন্দি রয়েছেন। ওই কারাগারের দরিদ্র বন্দি ও শিশুদের নতুন জামা উপহার দেওয়া হয়েছে। অন্য কারাগারের মতো খাবার দাবার একই আয়োজন ছিল।