২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর তৈরি নিয়ে সংঘর্ষে সাতক্ষীরায় নিহত ১

সংঘর্ষে আহত দুপক্ষের তিনজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Oct 2022, 03:45 PM

Updated : 15 Oct 2022, 03:53 PM

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর তৈরি করা নিয়ে সংঘর্ষে একজনের প্রাণ গেছে।

উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের হাটচালা গ্রামে শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে শ্যামনগর থানার এসআই শাহানুর আলম জানান।

নিহত আব্দুর রাজ্জাক গাইন (৬৬) ওই গ্রামের মৃত অমেদ আলীর ছেলে। তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা মর্গে পাপিঠানো হয়েছে।

আটকরা হলেন- আজিজুল ইসলাম (৪০), নুরজাহান বেগম (২৬), ইয়াকুব হোসেন ও শাহিদা বেগম।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এসআই বলেন, আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে স্থানীয় অলিল তরফদারের দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে রাজ্জাক লোকজন নিয়ে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে ঘর তৈরির চেষ্টা করেন। এ সময় অলিল ও তার ছেলে আজিজুলের নেতৃত্বে তাদের অনুসারীরা রাজ্জাককে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে য়ায়।

“সংঘর্ষে আহত দুপক্ষের তিনজনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক রাজ্জাককে মৃত ঘোষণা করেন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মিলন হোসেন বলেন, “জরুরি বিভাগে নেওয়ার ২০/২৫ মিনিট পর আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো মারাত্মক জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।”

নিহতের ভাইপো মনির হোসেন বলেন, তাদের দখলে থাকা জমির উপর আদালত সম্প্রতি স্থিতিবস্থা জারি করে। শনিবার সেখানে চাচা ঘর বাঁধতে গেলে অলিল তরফদারের জামাই এরশাদের নেৃতত্বে কৃষ্ণনগর থেকে আসা ২৫/৩০ জন লাঠিয়াল তাদের উপর হামলা করে।

“এ সময় হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে জ্ঞান হারানোর পর চাচাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন।”

অলিল তরফদারের মেয়ে নুরজাহান বলেন, শ্যামনগর থেকে ৩০/৩৫ জন ভাড়াটে লোকজন নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাই শাহাদাত এবং রওশন তাদের দখলে থাকা জমিতে ঘর তৈরির চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ভুরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জাফরুল আলম বাবু বলেন, “রাজ্জাক ও অলিলের মধ্যে অনেকদিন ধরেই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিলো। এ অবস্থায় আমি উভয়পক্ষকে আদালতের আদেশ অথবা ইউনিয়ন পরিষদের শালিস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।“