১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অনুপ্রবেশকালে ফেনীর তরুণকে মারধর করে পুলিশে দিল ভারতীয় জনতা’

ফেনীর ডিসি সাইফুল ইসলাম বলেন, “অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকালে ইয়াছিনকে আটক করেছে পুলিশ।”

ফেনী প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Dec 2024, 06:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:03 AM

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশকালে এক তরুণকে মারধর করে ভারতীয় জনতা দেশটির পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।  

বুধবার ভোরে ওই তরুণকে ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিজিবি-৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন জানান।

আটক মুহাম্মদ ইয়াছিন (১৯) পরশুরাম উপজেলার বাউরপাথর গ্রামের মুহাম্মদ মিজানের ছেলে।

মুহাম্মদ মিজান সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, “প্রতিদিনের মতই ভোরে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি একটি জমিতে কাজ করতে যায় ইয়াছিন। একপর্যায়ে ওপারের লোকজন সেখান থেকেই তাকে  আটক করে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ভারতীয় পুলিশে দিয়ে দিয়েছে। আমার ছেলেকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকালে ইয়াছিনকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি বর্তমানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন। 

কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ডিসি বলেন, “পরিস্থিতি অস্থিতিশীল কারার চেষ্টা থেকে সবাই বিরত থাকুন।”

বিজিবি-৪ ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, “যতটুকু জেনেছি, ইয়াছিন অসদুপায় অবলম্বন করে অনৈতিককাজে জড়িত হতে সীমান্তের ওপারে গেলে ভারতীয় নাগরিকরা ধরে গণধোলাই দিয়ে দেশটির পুলিশে হস্তান্তর করেছে। 

“তবে বিএসএফ বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে- এই বিষয়টি সত্য নয়। এরই মধ্যে বিএসএফের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তারা কোনো বাংলাদেশি যুবককে আটক করেনি। তবে বিলোনিয়া পুলিশের হাতে আটক বাংলাদেশি যুবক ইয়াছিন প্রথমে বিলোনিয়া হাসাপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ত্রিপুরার শান্তির হাট হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিচ্ছেন।” 

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, “যেহেতু অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ভারতে গেছেন ইয়াছিন; সেহেতু সেদেশের আইন অনুয়ায়ী পুলিশ তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। যেহেতু বিএসএফ সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনা এটা না; সেহেতু এ ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে কোনো পতাকা বৈঠক করার প্রয়োজন হচ্ছে না।”